আর্কাইভ | ঢাকা, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩, ১৯ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ ০১:৫৬:৩১ অপরাহ্ন
Photo
স্টাফ রিপোর্টার
ঢাকা, প্রকাশিতঃ
৩১ অক্টোবর ২০২৬
০৮:৪১:৪৩ পূর্বাহ্ন

মৃত্যুর রাতে বান্ধবী নিয়ে দেড় ঘণ্টা কোথায় ছিলেন তাহসিফ


বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা। এ ঘটনা তদন্তে সামনে এসেছে নতুন তথ্য। জানা গেছে, মৃত্যুর রাতে এক বান্ধবীকে নিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা উত্তরার একটি রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে ছিলেন তাহসিফ।

এ ঘটনার একটি সিসিটিভির ফুটেজ ভাইরাল হয়েছে। যেখানে ওই নারী ছাড়াও জুনিয়র বন্ধু এবং এলাকার ছোট ভাই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকেও তাহসিফের সঙ্গে দেখা গেছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ওই তরুণীকে তার বান্ধবী হিসেবে উল্লেখ করেছেন।


সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গত ২৭ অক্টোবর রাত ১০টা ১৭ মিনিটে তাহসিফ ও তার বান্ধবী উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে যান। তারা একটি মোটরসাইকেলে সেখানে পৌঁছান। কিছুক্ষণ পর আরেকটি মোটরসাইকেলে সেখানে আসেন দীপ।

আরও পড়ুন: তাহসিফ হত্যা: জুনিয়র বন্ধু দীপ ৪ দিনের রিমান্ডে
মোটরসাইকেল পার্ক করে তিনজনই রেস্টুরেন্টের ভেতরে প্রবেশ করেন। অন্য একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তাহসিফ ও তার বান্ধবী লিফটে উঠছেন। এ সময় তারা দীপের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। পরে হেলমেট পরা অবস্থায় দীপ সেখানে পৌঁছালে তিনজন একসঙ্গে বারের লিফটে ওঠেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে তারা প্রায় দেড় ঘণ্টা অবস্থান করেন। পরে তিনজন আবার মোটরসাইকেলে করে সেখান থেকে বেরিয়ে যান। পরে তাহসিফ তার বান্ধবীকে বাসায় নামিয়ে দেন। এরপর তাহসিফ ও দীপ যান টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায়।


তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে ওই রাতের চলাচল এবং বিভিন্ন স্থানে তার অবস্থানের তথ্য সংগ্রহ করছেন তদন্তকারীরা। তবে সিসিটিভি ফুটেজে পাওয়া এসব তথ্যের বিষয়ে তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।

এদিকে তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। শনিবার (৩১ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াসের আদালত এ আদেশ দেন।

আরও পড়ুন: তাহসিফের মৃত্যু: কাটেনি রহস্যের জট, তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে যেসব বিষয়
এর আগে ২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তুরাগ নদে মরদেহ ভাসতে থাকার খবর পেয়ে টঙ্গী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করেন। হাতঘড়ি ও পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। 

পরদিন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জানাজা শেষে ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দিবাগত রাতে দীপকে মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের একটি বাসা থেকে হেফাজতে নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শুক্রবার তাকে নিয়ে টঙ্গীর তুরাগ নদ সংলগ্ন মাজার বস্তি এলাকায় যায় পিবিআই। 

এরপর দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকা থেকে নম্বরপ্লেটবিহীন একটি কালো রঙের সুজুকি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

‘আমার ছেলের সাঁতারে প্রশিক্ষণ ছিল, ডুবে মৃত্যু হতে পারে না’

প্রশিক্ষিত সাঁতারু ছিলেন বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরি। তাই এই তরুণের পানিতে ডুবে মৃত্যু হতে পারে না বলে মনে করেন তাঁর বাবা এ কে এম এনায়েতুল করিম। তিনি আজ শনিবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘সে (তাহসিফ) কারও ধাওয়ায় দৌড় দেবে, আর তাকে ধাওয়াই বা কে দেবে? প্রশ্নই আসে না। আর ধাওয়ায় দৌড় দেওয়ারও কথা না।’

গত মঙ্গলবার বন্ধুর ডাকে বাসা থেকে বেরিয়ে আর ফেরেননি বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ। পরদিন ঢাকার উত্তরখানের তুরাগ নদ থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। জায়গাটি রাজবাড়ী ঘাট হিসেবে পরিচিত।

শুক্রবার দিবাগত রাত একটার পর কে এম এনায়েতুল করিম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে উত্তরখান থানায় হত্যা মামলা করেন। তাহসিফকে হত্যা করে লাশ গুম করতে নদীতে ফেলা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার আগে একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজে তাঁকে এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা যায়। পরিবারের সদস্যরা ওই ব্যক্তিকে তাহসিফের ‘বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই’ আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ হিসেবে শনাক্ত করেছিলেন।

গত বৃহস্পতিবার দীপকে প্রথমে হেফাজতে নেয় পিবিআই। আজ তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে নৌ পুলিশ। আদালতে তোলা হলে শুনানি শেষে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) তাঁর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

পুলিশ বলছে, ঘটনার দিন দীপ ও তাহসিফ একসঙ্গে ছিলেন। দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এটি তাহসিফের মোটরসাইকেল বলে ধারণা পুলিশের।


‘ছেলের মৃত্যুর কারণ জানতে চান বাবা’

তাহসিফের বাবা এনায়েতুল করিম বলেন, ‘আমরা তাঁর মৃত্যুর কারণ জানতে চাই। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ উদ্‌ঘাটন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হোক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

ছেলে পানিতে ডুবে মারা গেছেন, তা মানতে পারছেন না এনায়েতুল করিম। তিনি বলেন, তাঁর ছেলে সাঁতারে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। এ ছাড়া মিডিয়ার ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণও ছিল তাঁর। এ বিষয়ে সার্টিফিকেট রয়েছে। চাকরির শেষের অল্প দিন আগে তিনি এ বিষয়ে বিশেষ কোর্স করেছিলেন।

তাহসিফের বাবা বলেন, তাঁর ছেলে অত্যন্ত সাহসী ও মেধাবী ছিলেন। কোনো পুলিশ কর্মকর্তা তাঁকে ধাওয়া করবেন এবং তিনি ধাওয়া খেয়ে দৌড় দেবেন— এমনটা বিশ্বাস করেন না তিনি। তাঁর কাছে বিষয়টি হাস্যকর মনে হচ্ছে।

এনায়েতুল করিম বলেন, ‘একজন কমিশন্ড অফিসারের সামনে ১০০ পুলিশ অফিসার দাঁড়ালেও তো দৌড় দেওয়ার কথা নয়। কমিশন্ড অফিসারদের মধ্যে জিডি পাইলটরা সেরা। সেরা ছেলেদের জিডি পাইলট হিসেবে নির্বাচন করা হয়।’

সে (তাহসিফ) কারও ধাওয়ায় দৌড় দেবে, আর তাকে ধাওয়াই বা কে দেবে? প্রশ্নই আসে না! আর ধাওয়ায় তার দৌড় দেওয়ারও কথা না।

তাহসিফের বাবা জানান, তাঁর ছেলে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার পর বাসা থেকে বের হন। দীপ নিচে এসে ডাক দিলে তাহসিফ মাকে বলেন, ‘আম্মু, আমি একটু কথা বলে আসছি।’ এরপর তিনি আর বাসায় ফেরেননি।

এনায়েতুল করিম বলেন, তাহসিফের মা বারবার ফোন করে জানতে চেয়েছেন, কখন ফিরবেন। প্রতিবারই তাহসিফ বলেছেন, ‘আম্মা, এই আসছি, আসছি।’ রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মেসেঞ্জারে একটি ভয়েস বার্তা পাঠিয়ে তাহসিফ জানান, রওনা হয়েছেন। তবে কোথা থেকে রওনা হয়েছেন, তা বলেননি। এরপর তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। সারা রাত ফোন করেও কোনো সাড়া পাননি তাঁরা।

পরদিন সন্ধ্যার একটু আগে নৌ পুলিশ ফোন করে তাহসিফের লাশ পাওয়ার কথা জানায়। তাঁর বাবা বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ছুটে যাই। তবে সেদিন লাশ পাইনি। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে আমার কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়।’

‘আমি অত্যন্ত আপসেট’

ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন তাহসিফের বাবা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে নানা ধরনের ট্রল হচ্ছে উল্লেখ করে এনায়েতুল করিম বলেন, ‘আমি অত্যন্ত আপসেট। বাবা হিসেবে আমার ছেলেকে হারিয়েছি। আবার ফেসবুকসহ বিভিন্ন জায়গায় আমাকে নিয়ে বিভিন্ন ট্রল হচ্ছে। আমি ১০ ভাই–বোনের মধ্যে সবার বড়। আমার আম্মা রত্নগর্ভা। আমার প্রত্যেক ভাই-বোনকে পরিচয় দেওয়ার মতো করে বড় করেছি। এই বড় পরিবারকে আমি গড়ে তুলেছি। এ কারণে আমাকে শক্ত থাকতে হবে।’

সাংবাদিকদের সামনে হাউমাউ করে কাঁদলে তাঁর ছেলে ফিরে আসবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। এনায়েতুল করিম বলেন, ‘কোনো ধরনের দুর্ঘটনা হলে আমি এটাকে খুব সহজ করার চেষ্টা করি, যাতে পারিপার্শ্বিক সবাই মানসিক সাহস ও শক্তি পায়। আমার ভেতরে কীভাবে ভেঙে পড়ছে, কী হচ্ছে, আমি কীভাবে হাউমাউ করে কাঁদছি, চিৎকার করছি—এটা তো আমি আমার রুমের মধ্যে, ওয়াশরুমের মধ্যে করছি। সেটা তো আমি দেখছি, আল্লাহ দেখছেন। যা–ই হোক, এটা ব্যক্তিগত ইস্যু।’


দীপের বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন 
তাহসিফের বাবার ভাষ্য, ছেলের বন্ধু দীপের সঙ্গে তাঁরা যোগাযোগ করেছিলেন। দীপ তাঁকে বলেছিলেন, তাঁরা একসঙ্গে রাতের খাবার খেয়েছেন এবং তাহসিফকে বাসার সামনে রেখে চলে গেছেন; কিন্তু পরে তাহসিফের মোটরসাইকেল দূরে পাওয়া যায়। এ নিয়ে এনায়েতুল করিমের প্রশ্ন, ‘বন্ধু দীপ যদি তাহসিফকে বাসার কাছেই রেখে এসে থাকেন, তাহলে মোটরসাইকেল ওইখানে কীভাবে পাওয়া গেল?’

এনায়েতুল করিম বলেন, ‘আমি ছেলেকে না পেয়ে বন্ধুকে নির্দিষ্ট করে জিজ্ঞেস করেছিলাম, কোথা থেকে বিদায় নিয়েছ? সে বলল, ১ নম্বর গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে বিদায় নিয়েছে; আবার বলল, ভেতরে দাঁড়িয়ে বিদায় নিয়েছে। আমাকে আরও বলেছে, রাত ১২টার মধ্যে সে বাসায় চলে গেছে। পরে আবার জানতে পারলাম, সে রাত আড়াইটার পরে বাসায় গেছে। এই বিষয়গুলো তো প্রশ্নবিদ্ধ।’

তাহসিফের বাবা আরও বলেন, দীপ পুলিশকে জানিয়েছেন, দুজন রাজাঘাটের দিকে গিয়েছিলেন। সেখানে পুলিশের পোশাক পরা দুজনকে দেখে তাঁরা দৌড় দেন। পরে আবার বলা হয়েছে, তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন। তবে এসব বিষয়ে তিনি নিজে কিছু জানেন না।

এনায়েতুল করিম বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। তবে সে আমাকে বলেছে, আমার ছেলেকে সেখানে রেখে গেছে। পরে তার মোটরসাইকেল ওখানে পাওয়া গেছে বলে শুনেছি। তারা একসঙ্গে সেখানে গেছে, তাহলে এই কথার মধ্যে যে অসংগতি, তা তো প্রশ্নবিদ্ধ।’

তাহসিফের বাবা বলেন, তাঁর ছেলে বাসা থেকে বের হওয়ার পর কী ঘটেছে, তা তিনি জানেন না। তবে ঘটনাটি সম্পূর্ণ অস্বাভাবিক বলে মনে করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘এটা আমার ছেলের ক্ষেত্রে মেনে নেওয়া যায় না।’

তাহসিফ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে কাজ করেছেন। পরে নেত্র নিউজেও কাজ করেছেন। তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁর বাবা।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি এইচআরএসএসের

কে এম তাহসিফ সাউরির রহস্যজনক মৃত্যুতে গভীর উদ্বেগ ও শোক প্রকাশ করেছে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। সংস্থাটি মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

এইচআরএসএসের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, তাহসিফের মৃত্যু ঘিরে বিভিন্ন তথ্য ও বক্তব্যে অসংগতি রয়েছে। এসব বিষয় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। ময়নাতদন্ত ও রাসায়নিক পরীক্ষার প্রতিবেদন প্রকাশ, ডিজিটাল ও বস্তুগত সাক্ষ্যপ্রমাণ সংরক্ষণ, পরিবারের সদস্য ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হেফাজতে থাকা ব্যক্তির আইনি অধিকার রক্ষার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।