আর্কাইভ | ঢাকা, সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩, ২৭ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ ০১:৩০:১৬ পূর্বাহ্ন
Photo
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 
ঢাকা, প্রকাশিতঃ
০৮ নভেম্বর ২০২৬
০৬:১২:৫০ পূর্বাহ্ন

 যে কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ৯৭ মুসলিম প্রার্থীর জয় 


নির্বাচনি প্রচারণায় রিপাবলিকান শিবির ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দলীয় নেতাদের পক্ষ থেকে নাম নিয়ে ব্যঙ্গ, পরিকল্পিত ইসলামবিদ্বেষী প্রচারণা এবং নানা হুমকির পরও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক নির্বাচনে ইতিহাস গড়েছেন মুসলিম প্রার্থীরা। মার্কিন সিনেট, প্রতিনিধি পরিষদ, অঙ্গরাজ্য আইনসভা থেকে শুরু করে স্কুল বোর্ড—সব স্তরেই রেকর্ডসংখ্যক মুসলিম প্রার্থীর এই বড় বিজয় দেশটির রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

মুসলিম নাগরিক অধিকারবিষয়ক সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর)-এর হিসাব অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে বিভিন্ন স্তরে মোট ১৬৮ জন মুসলিম প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তাদের মধ্যে অন্তত ৯৭ জন প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।


এই সাফল্যের তালিকায় সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে এসেছে মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে ড. আবদুল আল-সাইয়েদের বিজয়, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) নির্বাচিত হয়েছেন ছয়জন মুসলিম সদস্য। এর মধ্যে ইলহান ওমর, রাশিদা তালিব, আন্দ্রে কারসন ও লতিফা সাইমন পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন এবং নতুন মুখ হিসেবে জয় পেয়েছেন আদম হামাউই ও দারিয়া লিজা আভিলা সেভালিয়া। এর বাইরে অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে ৩৯ জন, পৌরসভা ও কাউন্টিতে ১৬ জন, স্কুল বোর্ডে ২৭ জন এবং বিচারক পদে ৮ জন মুসলিম প্রার্থী জয়লাভ করেছেন।

যে কারণে এই ঐতিহাসিক সাফল্য

বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মতে, প্রতিকূল পরিবেশ ও ইসলামবিদ্বেষের মধ্যেও মুসলিম প্রার্থীদের এমন নজরকাড়া সাফল্যের পেছনে মূলত চারটি বড় নিয়ামক কাজ করেছে:

মার্কিন নির্বাচনে বিজয়ী হিজাবি নারীদের পরিচয় জানা গেলমার্কিন
১. মুসলিম ভোটারদের নজিরবিহীন সক্রিয়তা:

যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার মাত্র প্রায় এক শতাংশ মুসলিম হলেও রাজনীতিতে তাদের সম্পৃক্ততা ও ভোটার নিবন্ধন গত এক বছরে প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে। জর্জিয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ সুইং স্টেটগুলোতে বিপুলসংখ্যক মুসলিম আগাম ভোট (Early Voting) দিয়ে নিজেদের প্রভাব জানান দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মামদানির সমর্থিত ৩ প্রার্থীর জয়Mamdani up
২. গাজা যুদ্ধ ও পররাষ্ট্রনীতিতে ক্ষোভ:

সিএআইআর-এর জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৮০ শতাংশ মুসলিম ভোটার জানিয়েছেন যে গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান ও ফিলিস্তিন সংকট তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলেছে। নীতিগত পরিবর্তনের দাবিতে মুসলিমরা দলবদ্ধভাবে ব্যালট বাক্সে এর বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন।

৩. ইসলামবিদ্বেষের বিপরীতে প্রতিরোধ:

নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের নাম নিয়ে ট্রাম্পের কটাক্ষ, মসজিদে হামলার মতো ঘটনা এবং রিপাবলিকানদের সংগঠিত মুসলিমবিরোধী প্রচারণা ভীতি ছড়ানোর বদলে মুসলিম সমাজকে আরো বেশি ভোটমুখী করেছে। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার বলেছেন, ক্রমবর্ধমান ইসলামবিদ্বেষই তাদের ভোটকেন্দ্রে যেতে উৎসাহিত করেছে।

৪. ধর্মীয় মূল্যবোধ ও আন্তরিকতার প্রকাশ:

অতীতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা নিজেদের ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশে ইতস্তত করলেও এবার মুসলিম প্রার্থীরা নিজেদের বিশ্বাস ও মানবিক মূল্যবোধকে আড়াল না করে সরাসরি জনসেবার দর্শনের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। ভোটারদের সামনে তাদের এই সততা ও আন্তরিকতা সাধারণ অমুসলিম নাগরিকদেরও বিপুল সমর্থন পেতে সাহায্য করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থীদের জয়জয়কার: বিজয়ী ৩৭

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছেন মুসলিম প্রার্থীরা। দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অন্তত ৩৭ জন মুসলিম প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। কংগ্রেস থেকে শুরু করে অঙ্গরাজ্যের আইনসভা ও স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন পদে তাদের এই সাফল্য মার্কিন রাজনীতিতে মুসলিমদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্বের নতুন চিত্র তুলে ধরেছে।

জয়ী বা এগিয়ে থাকা প্রার্থীদের মধ্যে আটজন কংগ্রেসে যাচ্ছেন। তাদের একজন সিনেটে এবং সাতজন প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত হয়েছেন। এ ছাড়া অঙ্গরাজ্যগুলোর আইনসভায় ২৭ জন এবং বিচার বিভাগ ও কাউন্টি পর্যায়ের দুটি পদে মুসলিম প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন বা এগিয়ে রয়েছেন।


এবারের নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থীদের সবচেয়ে বড় সাফল্য এসেছে মিশিগান থেকে। অঙ্গরাজ্যটির সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদ রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্সকে পরাজিত করেছেন। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম হিসেবে সিনেট সদস্য নির্বাচিত হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন তিনি।


৪২ বছর বয়সি আল-সাইয়েদ একজন চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। এর আগে মিশিগানের স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। নির্বাচনি প্রচারে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, চিকিৎসাব্যয়ের চাপ কমানো, করপোরেট প্রভাব নিয়ন্ত্রণ এবং ইসরাইলকে নিঃশর্ত মার্কিন সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিরোধিতা ছিল তার গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান।

আল-সাইয়েদের ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে নির্বাচনি প্রচারে নানা ধরনের রাজনৈতিক আক্রমণ চালানো হয়েছিল। এমনকি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কয়েকজন রিপাবলিকান নেতা তাকে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে অভিযোগ করেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং আল-সাইয়েদও তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। এ ধরনের বক্তব্যকে ডেমোক্র্যাটরা ইসলামবিদ্বেষী রাজনৈতিক প্রচার হিসেবে সমালোচনা করেন। শেষ পর্যন্ত এসব বিতর্কের মধ্যেও জয় পেয়েছেন তিনি।


প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনেও মুসলিম প্রার্থীরা সাফল্য পেয়েছেন। মিনেসোটা থেকে ইলহান ওমর, মিশিগান থেকে রাশিদা তালিব, ইন্ডিয়ানা থেকে আন্দ্রে কারসন এবং ক্যালিফোর্নিয়া থেকে লতিফা সিমন পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন।


নিউ জার্সির ১২তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয় পেয়েছেন আদম হামাওয়ি। এর মধ্য দিয়ে তিনি অঙ্গরাজ্যটির প্রথম মুসলিম কংগ্রেস সদস্য হতে যাচ্ছেন। পেশায় চিকিৎসক হামাওয়ি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতেও চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ইরাক যুদ্ধে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার। নির্বাচনি প্রচারে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা ও শিক্ষাঋণের বোঝা কমানো এবং ইসরাইলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন তিনি।


নিউইয়র্কের ১৩তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয় পেয়েছেন দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ের। তিনি দীর্ঘদিনের কংগ্রেস সদস্য আদ্রিয়ানো এসপাইয়াতকে ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে পরাজিত করে আলোচনায় আসেন। নির্বাচনে জয়ের মধ্য দিয়ে তিনি কংগ্রেসে নির্বাচিত প্রথম লাতিনা মুসলিম নারী হিসেবে নতুন ইতিহাস গড়েছেন।


ক্যালিফোর্নিয়ার ১৪তম ডিস্ট্রিক্ট থেকে পূর্ণ মেয়াদে নির্বাচিত হয়েছেন আয়েশা ওয়াহাব। এর আগে আগস্টে অনুষ্ঠিত বিশেষ নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি প্রতিনিধি পরিষদে প্রবেশ করেছিলেন।


অঙ্গরাজ্যগুলোর আইনসভায়ও মুসলিম প্রার্থীদের সাফল্য ছিল উল্লেখযোগ্য। মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের মিশিগানে আব্বাস আলাউয়েহ, আলাবাস ফারহাত ও জালাল আবদুল্লাহ নিজ নিজ নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়েছেন বা এগিয়ে ছিলেন। ওহাইওতে জয় পেয়েছেন মুনিরা আবদুল্লাহি ও ইসমাইল মোহাম্মদ।


ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকানদের দখলে থাকা একটি আসন ডেমোক্র্যাটদের ফিরিয়ে দিয়েছেন নাবিলা সৈয়দ। ২৬তম স্টেট সিনেট ডিস্ট্রিক্টে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী ডার্বি হিলসকে পরাজিত করেছেন। অন্যদিকে অঙ্গরাজ্যটির প্রতিনিধি পরিষদে নিজের আসন ধরে রেখেছেন আবদেলনাসের রশিদ। মিশিগানের আপিল আদালতের নির্বাচনে এগিয়ে ছিলেন মারিয়াম সাদ বাজ্জি।


মিনেসোটায় জয় পেয়েছেন অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতা ওমর ফাতেহ ও জয়নাব মোহাম্মদ। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন মোহামুদ নুর ও সামাকাব হুসেইন। ওরেগনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিজের আসন ধরে রেখেছেন স্টেট সিনেটর কায়সে জামা। তবে ওয়াশিংটন কাউন্টির চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে নাফিসা ফাই পাম ট্রিসের চেয়ে পিছিয়ে ছিলেন। এদিকে ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের ৪৮তম ডিস্ট্রিক্টে প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনে প্রায় ৬৯ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে ছিলেন ওসমান সালাহউদ্দিন।


যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও মুসলিম প্রার্থীরা সাফল্য পেয়েছেন। নিউইয়র্কের ১২তম স্টেট সিনেট ডিস্ট্রিক্ট থেকে নির্বাচিত হয়েছেন আবের কাওয়াস। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিজের আসন ধরে রেখেছেন রবার্ট জ্যাকসন। কানেকটিকাটে স্টেট সিনেট নির্বাচনে জয় পেয়েছেন মরিয়ম খান ও সৌদ আনোয়ার। এ ছাড়া ডেলাওয়ারে মদিনা উইলসন-অ্যান্টন এবং পেনসিলভানিয়ায় তারিক খান নিজেদের আইনসভায় পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। কানেকটিকাটের চতুর্থ সিনেট ডিস্ট্রিক্টে পুনর্নির্বাচনের লড়াইয়ে ছিলেন এমডি রহমান; তবে তার ফল তখনো চূড়ান্ত হয়নি।


দক্ষিণাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্যগুলোতেও মুসলিম প্রার্থীদের সাফল্য দেখা গেছে। জর্জিয়ার সপ্তম স্টেট সিনেট ডিস্ট্রিক্টে জয় পেয়েছেন রুয়া রোমান। একই অঙ্গরাজ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন শেখ রহমান। রিপাবলিকানদের দখলে চলে যাওয়া নিজের পুরোনো আসন পুনরুদ্ধার করেছেন ফারুক মুগল।


টেক্সাসে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন সালমান ভোজানি ও সুলেমান লালানি। হ্যারিস কাউন্টির বিচারক পদে জয় পেয়েছেন লেটিশিয়া প্লামার। এর মধ্য দিয়ে তিনি টেক্সাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্বাচিত মুসলিম নারী জনপ্রতিনিধি হিসেবে নতুন পরিচিতি পেয়েছেন। নর্থ ক্যারোলাইনায় নিজের আসন ধরে রেখেছেন স্টেট সিনেটর মুজতবা মোহাম্মদ। অন্যদিকে কলোরাডোর ২৯তম স্টেট সিনেট ডিস্ট্রিক্ট থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ইমান জোদেহ। টেনেসিতে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন ইউসুফ হাকিম।


তবে সব মুসলিম প্রার্থী জয় পাননি। অ্যারিজোনার চতুর্থ কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে রিপাবলিকান প্রার্থী জুহদি জাসের পরাজিত হয়েছেন। ফ্লোরিডার ১০৩তম হাউস ডিস্ট্রিক্টে হেরেছেন ইমতিয়াজ মোহাম্মদ। মিনেসোটার হেনেপিন কাউন্টি কমিশনার নির্বাচনে শ্যারন এল-আমিনও বর্তমান কমিশনার আইরিন ফার্নান্দোর চেয়ে পিছিয়ে ছিলেন। এ ছাড়া কয়েকটি নির্বাচনী এলাকায় ভোট গণনা চলায় ফলাফল তখনো চূড়ান্ত হয়নি।


বাড়ছে মুসলিমদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ

মার্কিন রাজনীতিতে মুসলিমদের অংশগ্রহণ বাড়ার বিষয়টি এবারের নির্বাচনে বিশেষভাবে সামনে এসেছে। কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনসের (সিএআইআর) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের নির্বাচনে স্থানীয়, অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল পর্যায়ে ১৬০ জনের বেশি মুসলিম প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। ২০২২ সালের নির্বাচনে এ সংখ্যা ছিল ১৪৫।


এবারের নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থীদের অংশগ্রহণ আগের নির্বাচনের তুলনায় বেড়েছে। কেবল প্রার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধিই নয়, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তাদের জয়ও মার্কিন রাজনীতিতে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রভাব বিস্তারের ইঙ্গিত দিচ্ছে।


এদিকে মুসলিম প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারে নাগরিক অধিকার, স্বাস্থ্যসেবা, মানবিক সহায়তা এবং ইসরাইলকে মার্কিন সামরিক সহায়তার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি পরিবর্তনের দাবি কয়েকজন প্রার্থীর প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।


সব মিলিয়ে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থীদের সাফল্য যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে আবদুল আল-সাইয়েদের সিনেটে জয় দেশটির ইতিহাসে নতুন অধ্যায় তৈরি করেছে। তবে কয়েকটি আসনে ভোট গণনা ও আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা বাকি থাকায় জয়ী ও এগিয়ে থাকা প্রার্থীর সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স, আনাদোলু এজেন্সি, রিলিজিয়ন নিউজ সার্ভিস, সিবিএস নিউজ ও মুসলিম নেটওয়ার্ক টিভি