আর্কাইভ | ঢাকা, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩, ২৪ মহররম ১৪৪৮ ১২:৪৮:৩১ পূর্বাহ্ন
Photo
স্পোর্টস রিপোর্টার
ঢাকা, প্রকাশিতঃ
১০ জুলাই ২০২৬
১২:২৫:২০ অপরাহ্ন

এখন ফ্রান্সের সব মনোযোগ সেমিফাইনাল ঘিরে


প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিস থেকে শুরু করে একের পর এক সুযোগ হাতছাড়া; প্রথমার্ধের বাঁশি বাজার ঠিক আগে লুকাস দিগনের দূরপাল্লার শট বারে লেগে ফিরে আসা- সব মিলিয়ে মরক্কোর লড়াকু ডিফেন্সের সামনে ম্যাচটি ফ্রান্সের জন্য হতাশার হতে পারত। কিন্তু বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ড্রেসিংরুমে কোনো হতাশা বা সংশয়ের জায়গা ছিল না। ধীরস্থির এবং পরিকল্পিত ফুটবলে শেষ পর্যন্ত মরক্কোকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে দিদিয়ের দেশমের ফ্রান্স।

এই জয়ের ফলে ২০১৮ সালের চ্যাম্পিয়ন এবং ২০২২ সালের রানার্স-আপরা টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের শেষ চারে পা রাখল। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ফরাসিদের মুখোমুখি হতে হবে স্পেন অথবা বেলজিয়ামের।


ম্যাচের ২৮তম মিনিটে কিলিয়ান এমবাপের নেওয়া পেনাল্টি কিকটি দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো। তবে এই ধাক্কার পরও এমবাপে, মাইকেল অলিসে, দেজিরে দুয়ে কিংবা উসমান দেম্বেলেদের নিয়ে গড়া ফরাসি আক্রমণভাগ ধৈর্য হারায়নি। তারা মরক্কোকে ক্রমাগত দৌড়ের ওপর রেখে ক্লান্ত করে ফেলে।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ফরাসি মাস্টারমাইন্ড দিদিয়ের দেশম বলেন, "প্রথমার্ধে আমাদের ফিনিশিংয়ে কিছুটা ঘাটতি ছিল এবং পেনাল্টিটাও সেভ হয়ে যায়। কিন্তু আমাদের মনে, বিশেষ করে কিলিয়ানের মনে ম্যাচ জেতা নিয়ে বিন্দুমাত্র কোনো সন্দেহ বা দ্বিধা ছিল না। আমরা প্রতিপক্ষকে চেপে ধরার জন্য যা যা করা দরকার সব করেছি। আমরা মরক্কোকে মাঠে দম ফেলার সুযোগ দিইনি এবং তাদের ক্লান্ত করে ফেলেছি। শেষ পর্যন্ত ক্লান্তিই ওদের হারিয়ে দিয়েছে।"

২০১২ সালে ফ্রান্স জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব নেন দিদিয়ের দেশম। তাঁর অধীনে গত ১২ বছরে বিশ্ব ফুটবলে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছে ফ্রান্স। ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ এবং বিশ্বকাপ মিলিয়ে গত ৭টি মেজর টুর্নামেন্টের মধ্যে ৫ বারই সেমিফাইনালে উঠেছে ফরাসিরা (কেবল ২০১৪ বিশ্বকাপ এবং ২০২০ ইউরো ছাড়া)।

নিজের এই অবিশ্বাস্য সাফল্য নিয়ে দেশম বিনম্রভাবে বলেন, "দলে ভালো খেলোয়াড় থাকাটা সবচেয়ে জরুরি। একজন কোচের বা স্টাফদের সাফল্য আসে খেলোয়াড়দের হাত ধরেই। তবে হ্যাঁ, কোচ হিসেবে আমিও হয়তো কিছু জিনিস ঠিকঠাক করতে পেরেছি। আজকের ম্যাচে ওয়ারেন জাইর-এমেরির মতো তরুণ, যে এই টুর্নামেন্টে এর আগে এক মিনিটও খেলেনি, সে মাঠে নেমে দুর্দান্ত একটা ইমপ্যাক্ট তৈরি করেছে। এটা মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি আমাদের একটি সুন্দর মানবিক অভিযানও বটে।"


আগামী ১৯ জুলাই নিউ ইয়র্কের মেগা ফাইনালে ট্রফি উঁচিয়ে ধরার স্বপ্ন দেখছে পুরো ফ্রান্স। তবে এখনই ফাইনাল নিয়ে ভেবে পা হারাতে চান না ফরাসি ফুটবলাররা। দেশম ২০১৮ ও ২০২২ সালের সাথে এবারের পরিস্থিতির পার্থক্য টেনে বলেন, "২০১৮ সালে কেউ আমাদের কাছ থেকে সাফল্যের আশা করেনি। ২০২২ সালে আমরা ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে গিয়েছিলাম, যখন সাধারণত দলগুলো শেষ ১৬ থেকেই বিদায় নেয়। আর এবার, টুর্নামেন্টের প্রথম বল মাঠে গড়ানোর আগেই সবাই ধরে নিয়েছে ফ্রান্সই জিতবে। আমার খেলোয়াড়েরা এই চাপ সামলাতে অভ্যস্ত। আমরা এখনই ফাইনাল নিয়ে ভাবছি না। আমাদের পুরো ফোকাস এখন ১৪ জুলাইয়ের সেমিফাইনাল। ফ্রান্সের জাতীয় দিবস বা ‘বাস্তিল দিবসে’ সেমিফাইনাল জয় করাটা হবে আমাদের জন্য দারুণ একটা উপলক্ষ।"