আর্কাইভ | ঢাকা, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, ২৮ জিলহজ্ব ১৪৪৭ ০১:৫৪:৫৭ পূর্বাহ্ন
Photo
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 
ঢাকা, প্রকাশিতঃ
১৪ জুন ২০২৬
১২:৫৩:২৪ অপরাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্র ইরান চুক্তি নিয়ে ধোঁয়াশা


তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি শান্তি চুক্তির কাঠামোতে সম্মত হয়েছে এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রাথমিক চুক্তি সই হতে পারে। চুক্তি সই হলেই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী সবার জন্য খুলে দেয়া হবে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি আসলে কতদূর তা নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা। 

শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সাথে একটি চুক্তি রোববার সই হওয়ার কথা রয়েছে এবং সেটি সই হওয়ার পরপরই হরমুজ প্রণালী সবার জন্য উন্মুক্ত হবে।


তিনি দাবি করেন, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক হোসেন ওবামার ইরান চুক্তি দেশটিকে পারমাণবিক অস্ত্রের পথে এগিয়ে দিচ্ছিল, সে তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের এখনকার প্রস্তাবিত চুক্তি ঠিক তার বিপরীত।

ট্রাম্প বলেন, ইরান এখন আর পারমাণবিক অস্ত্র চায় না এবং ক্রয়, উন্নয়ন বা অন্য কোনো উপায়েও তা অর্জন করবে না।

তিনি আরো দাবি করেন, তার প্রশাসনের সাথে ইরানের সম্পর্ক আগের যেকোনো মার্কিন প্রশাসনের তুলনায় ভালো। একইসাথে তিনি বলেন, ওবামা প্রশাসনের মতো ইরানকে কোনো অর্থ দেয়া হবে না।

ট্রাম্প ভবিষ্যতে ইরান ও পুরো মধ্যপ্রাচ্যের সাথে কাজ করার আশাও ব্যক্ত করেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়া ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে।

তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ইসলামাবাদ স্মারক সইয়ের নির্দিষ্ট সময় (আজ) রোববার নয়।

তিনি বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে স্মারকটি সই হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না, তবে অপর পক্ষের দ্বিধার কারণে সইয়ের তারিখ নিয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও জানিয়েছেন, তিন মাসের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি শান্তি চুক্তির কাঠামোতে সম্মত হয়েছে।

তিনি বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শেষ হতে পারে। এরপরই শান্তি চুক্তির ইলেকট্রনিক স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছে পাকিস্তান এবং পরের সপ্তাহে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা শুরু হবে।

শাহবাজ শরিফ আলোচনার পুরো সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অব্যাহত অঙ্গীকারের প্রশংসা করেন এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।


তিনি বলেন, এই ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করবে।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তেহরান ও ওয়াশিংটন এমন একটি সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত করার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে, যা ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে সাম্প্রতিক সঙ্ঘাতের অবসানে হওয়া যুদ্ধবিরতিকে আনুষ্ঠানিক রূপ দেবে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা ইরনার তথ্য অনুযায়ী, আরাগচি বলেন, প্রস্তাবিত এই চুক্তি দুই মাসের আলোচনার ফল। পাকিস্তান ৮ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে মধ্যস্থতা করেছিল এবং স্থায়ী সমাধানের জন্য এখনো সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া সঙ্ঘাতের পর ইসলামাবাদের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই ইঙ্গিত দিয়েছে যে আলোচনা শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।

আরাগচি বলেন, যুদ্ধে ইরানি জনগণের অর্জিত বিজয়কে সংরক্ষণ ও সুসংহত করার জন্যই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আলোচনা চালিয়ে গেছে। তার ভাষায়, দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সাথে পূর্ণ সমন্বয় রেখে এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা পরিচালিত হয়েছে।

তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে শুধু ঐক্য নয়, এর চেয়েও গভীর সমন্বয় রয়েছে। উভয় পক্ষ একই লক্ষ্য অর্জনের জন্য ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান থেকে কাজ করছে।

আরাগচি জানান, আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং এর ফলে ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারক তৈরি হয়েছে। তবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত পরিবর্তনের সুযোগ থাকায় চূড়ান্ত হওয়ার আগে এর বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে না। চুক্তি সম্পন্ন হলে জনগণের সামনে সব তথ্য তুলে ধরা হবে।

একইসাথে তিনি সতর্ক করে বলেন, হুমকি ও চাপ কখনোই ইরানকে নতি স্বীকার করাতে পারেনি। তার ভাষায়, ‘যদি হুমকি কার্যকর হতো, তাহলে ইরান অনেক আগেই পিছিয়ে যেত। আমাদের বার্তা স্পষ্ট- হুমকি ফলপ্রসূ নয়। সমঝোতা চাইলে ভাষা বদলাতে হবে। কিন্তু হুমকি, চাপ বা যুদ্ধের পথ বেছে নেয়া হলে ইরান তার জবাব দিতে প্রস্তুত এবং সক্ষম।’