আর্কাইভ | ঢাকা, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩, ১৩ জিলক্বদ ১৪৪৭ ০৪:১৬:২৮ অপরাহ্ন
Photo
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 
ঢাকা, প্রকাশিতঃ
০১ মে ২০২৬
১২:৩৭:০৭ অপরাহ্ন
আপডেটঃ
০১ মে ২০২৬
১২:৩৭:৩৪ অপরাহ্ন

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পাল্টা হামলা চালানোর প্রস্তুতি ইরানের 


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির সুযোগে ইরান তাদের আগে থেকে লুকিয়ে রাখা বা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া অস্ত্র উদ্ধারের কাজ চালাচ্ছে বলে মার্কিন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে।

এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন ও ইসরাইলি বিমান হামলার পর মাটির নিচে বা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য গোলাবারুদ উদ্ধারে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে তেহরান।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা এবং এ বিষয়ে অবগত আরো দুই ব্যক্তির বরাত দিয়ে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা ইরান দ্রুত তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুনর্গঠন করতে চাইছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদি পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন, তবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পাল্টা আক্রমণ চালানোর লক্ষ্যেই ইরান এই প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।


সমুদ্রপথে ‘শত্রুর দাপট’ রুখে দেওয়ার ঘোষণা মোজতবা খামেনির

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এক লিখিত বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তেহরান উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং এই পানিপথে ‘শত্রুর অপব্যবহার’ নির্মূল করবে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ আরো কয়েক মাস স্থায়ী হতে পারে।

তিনি তেহরানের পক্ষ থেকে একটি চুক্তি মেনে নেওয়া এবং তার ভাষায় ‘আত্মসমর্পণ’ (গিভ আপ) করার অপেক্ষায় রয়েছেন।

ট্রাম্পের মতে, এই চুক্তির শর্ত মেনে নেওয়া না পর্যন্ত অবরোধ অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে খামেনি তার বিবৃতিতে এই অঞ্চলে নিজেদের আধিপত্য ও নিরাপত্তা বজায় রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

সূত্র: আল-জাজিরা

চীন সফরের আগে ইরান নিয়ে দোটানায় ট্রাম্প

আসন্ন চীন সফরকে সামনে রেখে ইরান যুদ্ধের বিষয়ে নিজের পরবর্তী পদক্ষেপ ও বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে এই চীন সফর একটি বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করতে পারে।


হোয়াইট হাউসের এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা এনবিসি-কে জানিয়েছেন, ইরানে সামরিক বা কূটনৈতিক বিকল্পগুলো যাচাইয়ের ক্ষেত্রে ট্রাম্প যেসব বিষয় বিবেচনা করছেন, তার মধ্যে এই সফর অন্যতম। যুদ্ধ শুরুর কারণে এর আগে সফরটি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে আগামী ১৪ ও ১৫ মে নির্ধারিত এই সফরটিকে বর্তমানে ‘প্রাধান্য’ দেওয়া হচ্ছে এবং হোয়াইট হাউস এটি আর স্থগিত করতে চাইছে না।

নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি ও ইরানের বন্দরগুলোতে চলমান দ্বিমুখী অবরোধ এই গুরুত্বপূর্ণ চীন সফরের আগে পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে।

চীন ইতোমধ্যে যুদ্ধ বন্ধে ‘গঠনমূলক ভূমিকা’ রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

তবে ট্রাম্প প্রশাসন চীনের বেশ কিছু তেল শোধনাগার ও শিপিং কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইরানের সঙ্গে তেল বাণিজ্যের অভিযোগে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেশী অনেক দেশের মতো চীনও তাদের আমদানিকৃত তেলের বড় অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিয়ে আসে, যা গত মার্চের শুরু থেকেই মূলত বন্ধ রয়েছে।

সূত্র : আল-জাজিরা

লেবাননে বিস্ফোরক বোঝাই ড্রোন হামলায় ইসরায়েলি সেনা নিহত

দক্ষিণ লেবাননে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলায় দখলদার ইসরায়েলের এক সেনা নিহত ও আরেক সেনা আহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী।


নিহত সেনার নাম সার্জেন্ট লিয়েম বেন হামো। ১৯ বছর বয়সী এ দখলদার গোলানি ব্রিগেডের ১৩ নম্বর ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের কান্তারা গ্রামে দুটি বিস্ফোরক বোঝাই ড্রোন পাঠায় হিজবুল্লাহ। এরমধ্যে একটি ড্রোন ইসরায়েলি বাহিনী ভূপাতিত করে। কিন্তু দ্বিতীয় ড্রোনটি সেনাদের পাশে গিয়ে বিস্ফোরিত হয়। এতে সার্জেন্ট লিয়েম বেন হামো প্রাণ হারান।

এ ড্রোন হামলার পর ওই এলাকায় পাল্টা হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী।


হিজবুল্লাহ আনুষ্ঠানিকভাবে ড্রোন হামলার কথা স্বীকার করেছে। তারা বলেছে, কান্তারা গ্রামে ইসরায়েলি সেনাদের দুটি ট্যাংককে টার্গেট করেছিল তারা।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দখলদার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর ইরান যুদ্ধ শুরু হলে ইরানের পক্ষে যুদ্ধে যোগ দেয় হিজবুল্লাহ। বর্তমানে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি চললেও; দুই পক্ষই হামলা পাল্টা হামলা চালাচ্ছে।

বিশেষ করে লেবাননে অবস্থান করা ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামলা চালাচ্ছে হিজবুল্লাহ। যুদ্ধবিরতির পরও দখলদাররা লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের অনেক অঞ্চলে রয়ে গেছে। এখন নিয়মিত তাদের ড্রোন দিয়ে টার্গেট করা হচ্ছে।


ইসরায়েল হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে পুনরায় পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু করতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এতে সায় দেননি।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল