আর্কাইভ | ঢাকা, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩, ১২ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ ১২:২১:০৯ পূর্বাহ্ন
ঢাকা, প্রকাশিতঃ
২৪ অক্টোবর ২০২৬
০৭:১১:৩০ পূর্বাহ্ন
আপডেটঃ
২৪ অক্টোবর ২০২৬
০৭:১২:০৩ পূর্বাহ্ন

সংবিধানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন চাই: আসিফ নজরুল


সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখতে চান সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। তাঁর প্রত্যাশা, বর্তমান সংবিধানের চেয়ে আরও উন্নত ও কার্যকর সংবিধান পাওয়া যাবে। এ জন্য সংবিধানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ইতিবাচক পরিবর্তন আনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।


আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমরা আশা করব, সংবিধান যে পর্যায়ে আছে, এখন তার চেয়ে অনেক উন্নত একটি সংবিধান পাব। যতটুকু অর্জন হবে, সেটাই আমাদের লাভ। তবে আমরা চাই, সর্বোচ্চ অর্জন যেন হয়।’

সংবিধান সংশোধন কমিটি নাকি সংবিধান সংস্কার পরিষদ—কোন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কে যেতে চান না জানিয়ে তিনি বলেন, সংবিধানে যেকোনো ইতিবাচক পরিবর্তনই সংস্কার হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হচ্ছে কি না, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বৈঠকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা, নির্বাচনব্যবস্থা, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা এবং নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়েও মতবিনিময় হয়েছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে আলোচনার বিষয়ে আসিফ নজরুল বলেন, এ ব্যবস্থা কীভাবে গঠন করা হবে, তা নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদে এ বিষয়ে একাধিক পদ্ধতির উল্লেখ রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত নয়টি পদ্ধতির মধ্যে আটটি বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য রয়েছে, আর একটি বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। একটি বিষয়ে মতভেদের কারণে পুরো প্রক্রিয়া আটকে না রেখে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।


সংসদের স্থায়ী কমিটিগুলোকে কার্যকর করার ওপরও গুরুত্ব দেন সাবেক এই আইন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থায়ী কমিটির প্রধান হিসেবে বিরোধী দলের সদস্যদের রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। তবে এ বিষয়ে বৈঠকে কোনো স্পষ্ট উত্তর পাননি।

সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদের আওতায় স্থায়ী কমিটিগুলোর কার্যক্রম কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নের বিষয়টিও তুলে ধরেন আসিফ নজরুল। তাঁর দাবি, এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ আইন ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় আইন বাদ দেওয়ার বিষয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বিএনপির নিজস্ব অঙ্গীকারেও এসব উদ্যোগের পক্ষে অবস্থান ছিল বলে বৈঠকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। জবাবে আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিষয়গুলো পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়নি; পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অতীত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে আসিফ নজরুল বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১১ সালে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নেতৃত্বে গঠিত সংসদীয় সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠকেও তিনি আমন্ত্রণ পেয়ে মতামত দিয়েছিলেন। তখন অনেক প্রত্যাশা নিয়ে অংশ নিলেও শেষ পর্যন্ত তা পূরণ হয়নি। পরে পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয়, যা ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এবারও যেন একই ধরনের হতাশার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মানুষের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগে তার প্রতিফলন থাকা জরুরি।

শনিবার বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক শুরু হয়। কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আইনজীবী শাহদীন মালিক, মাহবুব উদ্দিন খোকন, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও দর্শন বিভাগের অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খানসহ প্রায় ৪০ জন আইন বিশেষজ্ঞ ও বিশিষ্ট ব্যক্তি অংশ নেন।