আর্কাইভ | ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩, ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ ০১:৩৯:৫৭ পূর্বাহ্ন
Photo
স্টাফ রিপোর্টার
ঢাকা, প্রকাশিতঃ
১৯ আগস্ট ২০২৬
১০:০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন

বিছানাতেই কেটে গেছে জীবনের ২১টি বছর


জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে বেড়ে ওঠা তুলির জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত কাটে অন্যের ওপর নির্ভর করে। খাওয়া, চলাফেরা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন সব কাজেই প্রয়োজন হয় সাহায্য। তার এমন অবস্থায় অসহায় হয়ে পড়েছে পুরো পরিবার। একদিকে মেয়ের চিকিৎসার চিন্তা, অন্যদিকে সংসার চালানোর সংগ্রাম; সব মিলিয়ে দুর্বিষহ সময় পার করছেন তুলির বাবা-মা।

বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের বাঁশতলা গ্রামের আবজাল শেখের মেয়ে তুলি। বয়স ২১ পেরিয়ে গেলেও স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠেনি তার শরীর। পেশায় জেলে আবজাল শেখ মেয়েকে সুস্থ করে তুলতে নিজের সামর্থ্যের সবটুকু দিয়েই চেষ্টা করেছেন। নদীতে মাছ ধরে যা আয় করেছেন, তার বড় অংশই খরচ করেছেন তুলির চিকিৎসায়। চিকিৎসকদের পরামর্শ ছিল উন্নত চিকিৎসার। কিন্তু, অর্থের অভাবে সেই চিকিৎসা আর করানোও সম্ভব হয়নি।

এদিকে, দীর্ঘদিন চিকিৎসার পরও মেয়ের অবস্থার পরিবর্তন না হওয়ায় হতাশ পরিবারটি। এর মধ্যে বার্ধক্যের কারণে এখন আর নিয়মিত নদীতেও নামতে পারেন না তুলির বাবা। ফলে মেয়ের চিকিৎসার পাশাপাশি নিজেদের ভরণপোষণ চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছে আবজাল শেখের।


তবুও মেয়েকে নিয়ে আশা ছাড়েননি বাবা-মা। উন্নত চিকিৎসা পেলে তুলি হয়তো কিছুটা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে, এই আশাতেই দিন কাটছে তাদের।

তুলির শরীরের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অকার্যকর। সরকারি সহায়তা হিসেবে নিয়মিত প্রতিবন্ধী ভাতা দেওয়া হলেও, তা প্রয়োজনের তুলনায় অতি সামান্য। তাই, এই অসহায় পরিবারের পাশে সমাজের বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে উপজেলা সমাজসেবা বিভাগ।

তুলির জীবন বদলাতে প্রয়োজন সহযোগিতা। সামর্থ্যহীন এই পরিবারটির শেষ ভরসাও এখন বিত্তবান ও সমাজের মানুষের মানবিক সহায়তা। আর, এই সহায়তা এবং উন্নত চিকিৎসার সুযোগ পেলেই হয়তো ভালোভাবে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখতে পারবে তুলি ও তার পরিবার।  তথ্যসূত্র: বাংলা ভিষন