আর্কাইভ | ঢাকা, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩, ৩০ মহররম ১৪৪৮ ০৪:১৯:০৫ পূর্বাহ্ন
Photo
স্টাফ রিপোর্টার
ঢাকা, প্রকাশিতঃ
১৬ জুলাই ২০২৬
১০:০০:১৮ পূর্বাহ্ন

অনলাইন জুয়ার টাকায় তাদের বিলাসী জীবন


‎অনলাইন জুয়ার অর্থ লেনদেনের অভিযোগে একটি চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাদের কাছ থেকে ৬ হাজার ৬০০ টি মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টধারী সিম, ৬৭টি বিভিন্ন অপারেটরের সিম, ৭০টির বেশি মোবাইল ফোন, একটি ল্যাপটপ ও একটি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়েছে।

তারা হলেন- আরিফুল ইসলাম রিফাত (২৩), আরমান হোসেন জিহাদ (২৩), মাসুদ হোসেন (২২), আব্দুল রাব্বী (২৩), কৌশিক আহমেদ শুভ (২৩) ও মশিউর রহমান তারেক (২০)।  

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

‎‎সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, গাজীপুরের টঙ্গীর একটি রিসোর্টে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সহযোগিতায় কুমিল্লা সদরের একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।

‎‎শফিকুল ইসলাম বলেন, অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইট ও অ্যাপের লেনদেন পরিচালনায় বিদেশি নিয়ন্ত্রিত গু পে, পে কাশমা, লাকি পে, এলকিউ পে, এক্সই পে ও কোল পেসহ বিভিন্ন পেমেন্ট কোম্পানি কাজ করে। এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই চীনা নাগরিকদের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়। বাংলাদেশে লেনদেন সম্পন্ন করতে তারা স্থানীয়দের কাছ থেকে এমএফএস ও ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ করে এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার তুলনায় সহজ হওয়ায় বেশি ব্যবহার করে এমএফএস অ্যাকাউন্ট। জুয়ার অর্থ প্রথমে এমএফএস এজেন্ট অ্যাকাউন্টে জমা হয়। পরে সেই অর্থ ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করে ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ইউএসডিটিতে রূপান্তরের মাধ্যমে পাচার করে।   

‎‎তদন্তে ডিবি জানতে পেরেছে, বাংলাদেশে পরিচালিত অনলাইন জুয়ার পেমেন্ট সিস্টেমে প্রায় ২০০টি পেমেন্ট কোম্পানি সক্রিয়। এর মধ্যে গ্রেফতারদের নিয়োগকারী গু পের দৈনিক লেনদেন পাঁচ কোটি টাকার বেশি। আর দেশের অনলাইন জুয়ার বাজারে এমএফএস অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রতিদিন এক হাজার কোটি টাকারও বেশি লেনদেন হয়। 

ডিবি জানায়, আরিফুল ইসলাম রিফাত বাংলাদেশ অংশের মূল সমন্বয়কারী। তিনি এক চীনা নাগরিকের হয়ে কাজ করতেন। ওই চক্র আগে বাংলাদেশে অবস্থান করলেও বর্তমানে চীন থেকে পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করছে। 

রিফাতের ভাষ্য অনুযায়ী, মোট লেনদেনের শূন্য দশমিক ২ থেকে ১ শতাংশ কমিশন পেত তাদের চক্র। সেই অর্থের একটি বড় অংশ এমএফএস এজেন্ট, ডিস্ট্রিবিউশন সেলস অফিসার (ডিএসও), সুপারভাইজার ও সংশ্লিষ্ট অন্যদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হতো। তাদের আবাসন, খাবার ও যাতায়াতসহ অন্যান্য ব্যয়ও বহন করত বিদেশি পেমেন্ট কোম্পানি।

‎‎ডিবি আরও জানিয়েছে, সম্প্রতি ৩০০ ফিট এলাকায় দুর্ঘটনায় পড়া একটি বিএমডব্লিউ গাড়ির মালিকও আরিফুল ইসলাম রিফাত। তার নামে আরও একটি বিএমডব্লিউ রয়েছে। এসব সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে ডিবি প্রধান বলেন, ডিবি জুলাই আন্দোলন সংশ্লিষ্ট ৫৯টি মামলা তদন্ত করছে। প্রতিটি মামলায় বিপুল সংখ্যক আসামি থাকায় তাদের অবস্থান, ভূমিকা এবং ফরেনসিক তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে ধাপে ধাপে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে চার্জশীট দেওয়া হবে। এই আন্দোলনের প্রায় ৪০ জিবি ডাটা আছে। আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মামলাগুলো নিয়ে কাজ করছি। আমরা আইনের ভিতরে থেকে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে তদন্ত প্রতিবেদন দেব।

‎‎মামলা বাণিজ্যে জড়িতদের বিষয়ে তিনি বলেন, যে সমস্ত মামলা হয়েছে সেগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো যাচাই-বাছাই হচ্ছে। কেউ যদি ভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে মামলা করে থাকে। আমরা তাতে সায় দেবো না। আমি আপনাদেরকে নিশ্চয়তা দিচ্ছি যে মামলাগুলো সঠিকভাবে তদন্ত করে শুধু দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হবে।