আর্কাইভ | ঢাকা, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩, ২৩ মহররম ১৪৪৮ ০১:১৩:০৪ পূর্বাহ্ন
Photo
বিশেষ প্রতিবেদক 
ঢাকা, প্রকাশিতঃ
০৯ জুলাই ২০২৬
১০:১৫:৩৭ পূর্বাহ্ন

বরখাস্ত হচ্ছেন আরও ৫৪ পুলিশ কর্মকর্তা 


সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ ও সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারসহ চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ও পলাতক থাকা ৫৭ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার তিনজকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বরখাস্ত হওয়া তিন কর্মকর্তা হলেন-৩৩তম বিসিএস ব্যাচের মিশু বিশ্বাস, জুয়েল চাকমা এবং ৩৬তম বিসিএস ব্যাচের মাহমুদুল হাসান।

বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (শৃঙ্খলা) কাজী সাইফুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে পুলিশের অন্তত ৮২ জন ক্যাডার কর্মকর্তা পলাতক আছেন। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে বরখাস্ত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে ৫৭ জনের তালিকা। এর মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার তিনজনকে বরখাস্তের প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে। বাকিদেরও পর্যায়ক্রমে বরখাস্ত করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বরখাস্তের তালিকায় থাকা অন্য কর্মকর্তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন-সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক ডিআইজি নূরে আলম মিনা, সাবেক ডিআইজি মো. আনিসুর রহমান, ডিআইজি এ কে এম এহসানউল্লাহ, ডিআইজি বিপ্লব বিজয় তালুকদার এবং ডিআইজি টুটুল চক্রবর্তী। তালিকায় আরও আছেন—সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার এস এম মেহেদী হাসান, রিফাত রহমান শামীম, সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, সঞ্জিত কুমার রায়, সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার কাজী আশরাফুল আজীম, মো. ইকবাল হোসাইন, মো. নাজমুল ইসলাম, মানস কুমার পোদ্দার, কাজী মনিরুজ্জামান, মো. শাহ নূর আলম পাটওয়ারী ও এটিইউর সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন।

এ ছাড়া পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্যে তালিকায় রয়েছেন-মো. আলী আশরাফ ভূঞা, জেসমিন কেকা, মো. আবু মারুফ হোসেন, আয়েশা সিদ্দিকা, মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন, মো. রহমত উল্লাহ চৌধুরী, মো. তারেক বিন রশিদ, মো. আসাদুজ্জামান, আরিফুর রহমান মন্ডল, মোহাম্মদ জায়েদুল আলম, মো. শাহজাহান, গোলাম মোস্তফা রাসেল, হাসান আরাফাত, রাজীব দাস, হাসানুজ্জামান মোল্যা, মো. হাফিজ আল ফারুক, রুবাইয়াত জামান, এস এম জাহাঙ্গীর হাছান, রাজন কুমার দাস, মো. মাসুদুর রহমান মনির, মোৎ. রাশেদুল ইসলাম, তোহিদুল ইসলাম, মো. রওশানুল হক সৈকত ও এস এম শামীম। সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী কমিশনার পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্যে বরখাস্তের তালিকায় আছেন-মো. হাবিবুল্লাহ দালাল, মো. আরিফুজ্জামান, মো. আল ইমরান হোসেন, মোহাম্মদ ইমরুল, শাহ আলম মো. আখতারুজ্জামান ইসলাম, ইফতেখারুল ইসলাম, পলাশ রঞ্জন দে, মফিজুর রহমান পলাশ, মো. গোলাম রুহানী ও নাহিদ ফেরদৌস। তাদের মধ্যে কয়েকজন বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় রয়েছেন। 

পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, পলাতক এসব কর্মকর্তা বিগত ১৫ বছর আওয়ামী লীগ আমলে বিরোধী দলকে দমনে মাঠ পর্যায়ে ভূমিকা রাখেন। কেউ কেউ সাবেক আইজিপি (দুইয়ে গ্রেফতার)  বেনজীর আহমেদের মতো অতি উৎসাহী ছিলেন। এছাড়া এসব কর্মকর্তা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতাকে দমনপীড়ন এবং সরাসরি গুলি করারও নির্দেশ দিয়েছিলেন। গণঅভ্যুত্থানের পর বিচারের আতঙ্কে তারা আর কর্মক্ষেত্রে ফেরেননি। সাবেক দুই আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন এবং এ কে এম শহীদুল হক কারাগারে আছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মামলায় পাঁচ বছরের সাজা হয়েছে চৌধুরী আবদুল্লাহ-আল মামুনের। তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ভারতে পালিয়ে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রাজসাক্ষী হয়েছিলেন। এছাড়া অতিরিক্ত ডিআইজি মশিউর রহমান, ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহিল কাফী, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক দুই ওসি আবুল হাসান ও মাজহারুল ইসলামসহ সাত কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হয়েছেন। সূত্র জানায়, পলাতক অধিকাংশ পুলিশ সদস্য পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে অবস্থান করছেন। কেউ কেউ ইউরোপে পাড়ি জমিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে থাকার তথ্যও রয়েছে কয়েকজনের। কেউ আবার দেশেই আত্মগোপনে আছেন। এদের বড় অংশ আশায় বুক বেঁধে আছেন, দেশের পরিস্থিতি ভালো হলে তারা আবার দেশে ফিরে পুলিশ সার্ভিসে যোগ দেবেন। এসব পলাতক পুলিশ সদস্যের বেতন আগেই বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। 

জানা গেছে, অভ্যুত্থানের পর পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ১ হাজার ৪৯০টি মামলা দায়ের হয়েছে। একই সময়ে অন্তত ১৩৭ জন পুলিশ সদস্য কর্মস্থল ত্যাগ করেন। তাদের মধ্যে ৫৬ জন ফিরে এসেছেন। এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে ডিআইজি থেকে পরিদর্শক পদমর্যাদার ৪০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তাদের অনুকূলে দেওয়া পদকও প্রত্যাহার করা হয়। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী, ‘পলায়ন’ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ইতোমধ্যে অনেক কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন।