আর্কাইভ | ঢাকা, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, ১৮ জিলহজ্ব ১৪৪৭ ০২:১০:৩৬ পূর্বাহ্ন
Photo
এখন বাংলা ডেস্ক
ঢাকা, প্রকাশিতঃ
০৪ জুন ২০২৬
০৯:০৮:৪২ পূর্বাহ্ন

ইরানে যুদ্ধে কতটা কোণঠাসা ট্রাম্প


ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা খর্ব করার প্রস্তাবের ওপর কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে ভোট হয় স্থানীয় সময় বুধবার। এর ঠিক আগে প্রস্তাবটির বিরোধীতা করতে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের অনুরোধ করেছিলেন স্পিকার মাইক জনসন। 

সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জনসন বলেছিলেন, এই পদক্ষেপ খুবই ‘বিপজ্জনক’ হবে। এটি যুদ্ধ অবসানের কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ট্রাম্পের দর-কষাকষির ক্ষমতাকে দুর্বল করে দেবে। কিন্তু জনসনের এ আহ্বান সত্ত্বেও, চারজন রিপাবলিকান সদস্য ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের ক্ষমতা খর্ব করার প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দিয়েছেন। ফলে ২১৫-২০৮ ভোটে প্রস্তাবটি পাস হয়। প্রেসিডেন্সির দ্বিতীয় মেয়াদে এটি ট্রাম্পের জন্য অন্যতম বড় ধাক্কা বা তিরস্কার।


কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ বা প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়া প্রস্তাবটি এখন উচ্চকক্ষ সিনেটে তোলা হবে। ১০০ জন সিনেটরের মধ্যে ৫০ জনই ইতোমধ্যে প্রস্তাবটিতে সমর্থন দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ফলে সিনেটেও পাস হলে ট্রাম্পকে ইরান থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে অথবা যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে।

কিন্তু এই প্রক্রিয়াকে হোয়াইট হাউস খুব বেশি গুরুত্ব দেবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ আছে। তারা প্রস্তাবটি উপেক্ষার চেষ্টাও করতে পারে। সামনের দিনগুলোতে যাই ঘটুক না কেন, বুধবারের ভোটাভুটি অন্তত একটি বিষয় পরিষ্কার করে দিয়েছে। ট্রাম্প এবং তাঁর বাঁধানো যুদ্ধ নিয়ে খোদ রিপাবলিকানরাই ধৈর্য হারিয়ে ফেলছেন। প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাবটি পাস হওয়া ইঙ্গিত দেয়- রিপাবলিকানদের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, ট্রাম্পকে ইরান যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য আর সময় দিতে রাজি নয়।

নিজ দলের আইনপ্রণেতারাই বিরুদ্ধে যাওয়ায়, ট্রাম্প ক্রমান্বয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন। তাঁর জনপ্রিয়তার সূচকও বর্তমানে ইতিহাসের সর্বনিম্ন স্তরে নেমে গেছে। আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইরান যুদ্ধও একটি দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থার দিকে মোড় নিয়েছে। এ অবস্থায় সামনের দিনগুলোর পরিস্থিতি সামলানোর মতো নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতাও ট্রাম্প হারিয়ে ফেলছেন।

সামনে কঠিন পথ
অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিভিন্ন বিষয় ছাড়াও ট্রাম্পকে সবচেয়ে বেশি কোণঠাসা করে রেখেছে ইরান যুদ্ধ। এই মুহূর্তে যুদ্ধ থেকে সম্মানজনকভাবে বেরিয়ে যাওয়ার কোনো সহজ পথ খোলা নেই।

তারপরও ট্রাম্প এমন ভাব দেখাচ্ছেন, যেন তাঁর হাতে অঢেল সময় আছে। ইরানের সঙ্গে চুক্তি হলেও সেখান থেকে তিনি উল্লেখযোগ্য কিছু অর্জন করতে পারবেন বলে মনে হচ্ছে না। ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের শাসকদের মধ্যে নমনীয়তার এখনো কোনো লক্ষণ নেই। বড় ধরনের সামরিক হামলার হুমকিকেও তেহরান গুরুত্ব দিচ্ছে না।

গত কয়েকদিনে হওয়া পাল্টাপাল্টি হামলার পরও ট্রাম্প দাবি করছেন, আলোচনা ভালোভাবে এগোচ্ছে। কয়েক দিনের মধ্যেই চুক্তি হয়ে যেতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন। কিন্তু প্রতিনিধি পরিষদের ভোটাভুটি দেখাচ্ছে, তাঁর এমন কথার ওপর আইনপ্রণেতারা ভরসা রাখতে পারেননি। যুদ্ধ ক্ষমতা খর্ব করার প্রস্তাবের পক্ষে নিজ দলের সদস্যদের ভোট দেওয়াটাও আস্থাহীনতার একটি প্রমাণ।  এখন যদি সিনেটেও একই দৃশ্য দেখা যায়, তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প হয়তো আরও বাক্সবন্দি বা কোণঠাসা হয়ে পড়বেন।