আর্কাইভ | ঢাকা, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, ১৮ জিলহজ্ব ১৪৪৭ ০১:১১:১৬ পূর্বাহ্ন
Photo
এখন বাংলা ডেস্ক
ঢাকা, প্রকাশিতঃ
০৪ জুন ২০২৬
০৯:০৪:১৮ পূর্বাহ্ন

মুখের ঘা কি সতর্ক সংকেত?


ঠোঁটের ভেতরে বা গালের পাশে হঠাৎ ছোট ছোট ঘা দেখা দেওয়া, খেতে গেলে জ্বালা বা ব্যথা অনুভব করা—এ ধরনের সমস্যা অনেকেই মাঝেমধ্যেই অনুভব করেন। কিন্তু এটি কি শুধুই সাধারণ শারীরিক সমস্যা, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে বড় কোনো অসুখ? 

চিকিৎসকদের মতে, মুখের ঘা বা আলসার খুবই সাধারণ একটি সমস্যা।


বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এটি এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যেই নিজে থেকে সেরে যায়। ফলে অনেকেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন না। তবে মুখের ঘা কখনো কখনো শরীরের ভেতরের বড় কোনো সমস্যার প্রাথমিক ইঙ্গিতও হতে পারে।
মুখে ঘা হওয়ার সাধারণ কারণ

চিকিৎসকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মুখের ঘা হওয়ার পেছনে বেশ কিছু সাধারণ কারণ থাকতে পারে।


এর মধ্যে অন্যতম হলো মানসিক চাপ এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব। এ ছাড়া খাবার খাওয়ার সময় অসাবধানতাবশত গাল বা জিহ্বায় কামড় লেগে যাওয়া, অতিরিক্ত ঝাল-মসলাযুক্ত খাবার গ্রহণ, শরীরে পানির ঘাটতি বা ডিহাইড্রেশন এবং ভিটামিন ও পুষ্টির সামান্য অভাবও এই সমস্যার কারণ হতে পারে।
কখন সতর্ক হওয়া জরুরি?

বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখের ঘা সাধারণত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেরে গেলে চিন্তার কারণ নেই। তবে কিছু লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।


যেমন—ঘা দুই থেকে তিন সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে, বারবার ফিরে এলে বা আকারে বড় হতে থাকলে, ঘা থেকে রক্তপাত হলে। পাশাপাশি মুখে ক্রমাগত ব্যথা, খাবার গিলতে সমস্যা, অকারণ ওজন কমে যাওয়া, জ্বর বা অতিরিক্ত ক্লান্তি থাকলেও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
কোন রোগের ইঙ্গিত হতে পারে?

চিকিৎসকদের মতে, বারবার মুখে ঘা হওয়া কখনো কখনো শরীরে ভিটামিন বি১২, আয়রন বা ফোলেটের ঘাটতির লক্ষণ হতে পারে। এ ছাড়া রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার সমস্যা, দীর্ঘমেয়াদি মেটাবলিক ডিজঅর্ডার বা অন্যান্য ক্রনিক রোগের প্রাথমিক সংকেতও মুখে প্রকাশ পেতে পারে।

চিকিৎসা ও পরামর্শ

অনেকেই মুখের ঘা হলে ঘরোয়া টোটকা বা ওভার-দ্য-কাউন্টার জেল ব্যবহার করেন।


এতে সাময়িক আরাম মিললেও মূল কারণ দূর হয় না বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। মুখের ঘা দীর্ঘস্থায়ী হওয়া মানেই তা সব সময় গুরুতর নয়, তবে সময়কাল ও লক্ষণ পর্যবেক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা শুরু করলে ভবিষ্যতের জটিলতা অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব।