আর্কাইভ | ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, ২৭ জিলক্বদ ১৪৪৭ ০৮:৪৫:৫২ অপরাহ্ন
Photo
বিশেষ প্রতিবেদক
ঢাকা, প্রকাশিতঃ
১৫ মে ২০২৬
১০:১২:২৫ পূর্বাহ্ন
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি

সভাপতি-সম্পাদকসহ ১৩ পদে বিএনপির জয়


আইনজীবীদের অন্যতম শীর্ষ সংগঠন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিতে ২০২৬-২০২৭ সেশনের নির্বাচনে ১৪টি পদের মধ্যে সভাপতি ও সম্পাদকসহ ১৩টি পদেই বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি-সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী প্যানেলের (নীল প্যানেল) প্রার্থীরা। সদস্যের একটি পদে জয় পেয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-সমর্থিত আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের (সবুজ প্যানেল) প্রার্থী।

ঘোষিত ফলাফল অনুসারে, নীল প্যানেল থেকে সভাপতি পদে ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ২ হাজার ৯৮৪ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। এই পদে তার প্রতিদ্বন্দ্বী সবুজ প্যানেলের অ্যাডভোকেট আবদুল বাতেন ৭৮৮ ভোট পেয়েছেন।


নীল প্যানেল থেকে সম্পাদক পদে ২ হাজার ৫৮২ ভোট পেয়ে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী জয়ী হয়েছেন। এই পদে তার প্রতিদ্বন্দ্বী সবুজ প্যানেলের এ কে এম রেজাউল করিম খন্দকার ৭৮৬ ভোট পেয়েছেন।

গত ২ এপ্রিল এক নোটিশে সমিতির দুই দিনব্যাপী নির্বাচনের (২০২৬-২৭) তারিখ ঘোষণা করা হয়। বুধবার (১৩ মে) ও বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুইদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২০২৭ সেশনের দুই দিনব্যাপী নির্বাচনের দ্বিতীয় ও শেষ দিনের ভোটগ্রহণ শেষ করা হয়েছে। এদিন সুপ্রিম কোর্টের ২ হাজার ২৭৭ জন আইনজীবী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। প্রথমদিন ভোট দিয়েছেন ১ হাজার ৭৭১ জন আইনজীবী। সব মিলিয়ে দুই দিনে সর্বমোট ৪ হাজার ৪৮ জন আইনজীবী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

ভোটগ্রহণ শেষে রাত পৌনে ১০টার দিকে ভোট গণনা শুরু হয়। গণনা শেষে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাত দুইটার দিকে নির্বাচন পরিচালনা-সংক্রান্ত উপকমিটির আহ্বায়ক সাবেক বিচারপতি ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী এই ফলাফল ঘোষণা করেন।

এক বছর মেয়াদে সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির ১৪টি পদে এ নির্বাচন হয়ে থাকে। পদগুলো হলো— একজন সভাপতি, দুজন সহ-সভাপতি, একজন সম্পাদক, একজন কোষাধ্যক্ষ, দুজন সহ-সম্পাদক ও সাতজন সদস্য।

নীল প্যানেল থেকে সহ-সভাপতির দুটি পদে অ্যাডভোকেট মো. মাগফুর রহমান শেখ ও অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান নির্বাচিত হয়েছেন। নীল প্যানেল থেকে সমিতির কোষাধ্যক্ষ পদে অ্যাডভোকেট মো. জিয়াউর রহমান জয়ী হয়েছেন। নীল প্যানেল থেকে সহ-সম্পাদকের দুটি পদে অ্যাডভোকেট মাকসুদ উল্লাহ ও মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম মুকুল বিজয়ী হয়েছেন।

সদস্য সাতটি পদের মধ্যে ছয়টি পেয়েছে নীল প্যানেলের প্রার্থীরা। তারা হলেন— ব্যারিস্টার এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী, অ্যাডভোকেট এ কে এম আজাদ হোসেন, ওয়াহিদ আফরোজ চৌধুরী, মো. কবির হোসেন, মো. জিয়া উদ্দিন মিয়া ও মো. টিপু সুলতান। সদস্যের অপর একটি পদে বিজয়ী হয়েছেন সবুজ প্যানেলের অ্যাডভোকেট মো. আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।

এবারের নির্বাচনে ১৪টি পদের বিপরীতে ৪০ জন প্রার্থী হন। নির্বাচনে মোট ১১ হাজার ৯৭ ভোটারের মধ্যে ৪ হাজার ৪৮ জন আইনজীবী তাদের ভোট দেন।


সমিতির এ নির্বাচনকে নির্দলীয় বলা হয়। তবে দৃশ্যত রাজনৈতিক দলের সমর্থক আইনজীবীদের থেকে মনোনীত প্রার্থীদের নিয়ে প্যানেলের আদলে নির্বাচন হয়ে থাকে। বিগত সময়ে সমিতির নির্বাচনে বরাবরই বিএনপিপন্থি (নীল হিসেবে পরিচিত) ও আওয়ামী লীগপন্থি (সাদা হিসেবে পরিচিত) আইনজীবী প্যানেলের মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতো।

অবশ্য গত ২৬ এপ্রিল সমিতির সাধারণ সদস্যদের এক বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) হয়। সেখানে দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীদের নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।

সমিতির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীরা (সাদা প্যানেল) নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। তবে বিএনপি-সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী প্যানেল (নীল প্যানেল), জামায়াতে ইসলামী-সমর্থিত আইনজীবী ঐক্য প্যানেল (সবুজ প্যানেল) এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-সমর্থিত ন্যাশনাল ল ইয়ার্স অ্যালায়েন্স মনোনীত প্যানেলের (লাল-সবুজ প্যানেল) প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নেন। নীল ও সবুজ প্যানেল থেকে ১৪টি পদে প্রার্থী দেওয়া হয়। লাল-সবুজ প্যানেল ছয়টি পদে প্রার্থী দেয়।