আর্কাইভ | ঢাকা, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২, ১১ শাবান ১৪৪৭ ০৭:২৬:৩২ অপরাহ্ন
Photo
এখন বাংলা ডেস্ক
ঢাকা, প্রকাশিতঃ
২২ জানুয়ারী ২০২৬
০৯:২৪:০৩ পূর্বাহ্ন
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন

জামায়াতের সঙ্গে ‘বন্ধুত্ব’ চায় যুক্তরাষ্ট্র


দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের হাতে আসা একটি ফাঁস হওয়া অডিওতে শোনা যায়, ঢাকায় নিযুক্ত এক মার্কিন কূটনীতিক আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে দলটির সম্ভাব্য সর্বোচ্চ সাফল্যের প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।


‘আমরা চাই তারা আমাদের বন্ধু হোক,’ ওই কূটনীতিককে বলতে শোনা যায়। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশি সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন, যেন জামায়াতের নেতাদের—দলটির প্রভাবশালী ছাত্র সংগঠনসহ—মূলধারার গণমাধ্যম আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।


এই উদ্যোগটি যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে নিষিদ্ধ থাকা জামায়াতে ইসলামীর রয়েছে ইসলামি শাসনব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার দীর্ঘ ইতিহাস; যার মধ্যে নারীদের কর্মঘণ্টা সীমিত করা এবং ধর্মীয় আইনের ভূমিকা বাড়ানোর প্রস্তাবও ছিল। বর্তমানে দলটি নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপন করছে—দুর্নীতিবিরোধী, সংস্কারমুখী এবং নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে।

এ প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রও যেন সহযোগিতা করতে আগ্রহী। ওই মার্কিন কর্মকর্তা ইসলামপন্থী শাসন নিয়ে খুব বেশি আশঙ্কা দেখাননি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের ক্ষমতা। জামায়াত যদি আদর্শগত ‘লাল রেখা’ অতিক্রম করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর শুল্ক আরোপের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে যা বাংলাদেশের রপ্তানিনির্ভর পোশাক খাতের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।


‘যদি আর কোনো অর্ডার না আসে, তাহলে বাংলাদেশি অর্থনীতিই থাকবে না,’—সতর্ক করে বলেন ওই কূটনীতিক।

এই পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন ভারত বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। দীর্ঘদিন ধরেই নয়াদিল্লি জামায়াতে ইসলামিকে নিরাপত্তা ঝুঁকি ও অস্থিতিশীলতাসৃষ্টিকারী শক্তি হিসেবে দেখে আসছে, যার আদর্শগত সংযোগ রয়েছে পাকিস্তানের সঙ্গে। বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এই যোগাযোগ যুক্তরাষ্ট্র–ভারত সম্পর্ককে আরও চাপে ফেলতে পারে—বিশেষত এমন এক সময়ে, যখন ভূরাজনৈতিক আস্থায় ফাটল ধরছে।

আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞ মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, ‘বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের সবচেয়ে বড় ভয় সব সময়ই ছিল জামায়াত। এই বিষয়টি দ্বিপাক্ষিক দূরত্ব আরও বাড়াতে পারে।’

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটটিও অত্যন্ত সংবেদনশীল। ২০২৪ সালে নাটকীয়ভাবে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনার পরবর্তী যুগে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ। নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার ‘গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে জামায়াতে ইসলামীর মূলধারার রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন বড় ধরনের রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং একই সঙ্গে এটি একটি পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াচ্ছে যে অস্থির এই অঞ্চলে প্রভাব ধরে রাখতে পশ্চিমা শক্তিগুলো কতদূর যেতে প্রস্তুত।