সরকার ও পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনী নিয়ে বক্তব্যের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও রেকর্ডকে কেন্দ্র করে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার প্রত্যাহার হওয়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বৃহস্পতিবার রাতে ডিবি কার্যালয়ে ডেকে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
ডিবি সূত্র জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিওটির বিষয়ে তদন্ত করতে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটিই রাকিবুল হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার সকালে প্রশাসনিক কারণে রাকিবুল হাসানকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়। ডিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ের এক আদেশে তাকে ডিএমপি সদর দফতর ও প্রশাসন বিভাগের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দফতরে সংযুক্ত করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিও রেকর্ডে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে ওসি রাকিবুল ইসলামের কথোপকথন শোনা যায়। তবে অডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এরপর ফেসবুকে নিজের প্রোফাইল থেকে দেওয়া এক পোস্টে রাকিবুল দাবি করেন, ভাইরাল অডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি। ডিবির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ছড়িয়ে পড়া অডিওর বিষয়ে চলমান অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তাকে ডিবিতে নেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার আগে এ ধরনের অনুসন্ধান করতে হয়।
অনুসন্ধান কি ডিবি করছে নাকি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কোনো কমিটির অধীনে হচ্ছে—সে বিষয়ে বিস্তারিত বলতে চাননি ওই কর্মকর্তা। কখন রাকিবুল হাসানকে ডিবিতে নেওয়া হয়েছে বা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেয়া হয়েছে কিনা সেটিও তিনি জানাতে চাননি। পুলিশের পরিদর্শক রাকিবুল হাসান ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দায়িত্বে ছিলেন। গত বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অডিও ছড়িয়ে পড়ে। এতে রাকিবুল হাসানকে সরকার, প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনী নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করতে শোনা যায়। পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, অডিওটি রাকিবুল হাসানের বলে প্রাথমিকভাবে তারা নিশ্চিত হয়েছে। অডিওতে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা এবং পুলিশের সক্ষমতা নিয়ে মন্তব্য করতে শোনা যায় রাকিবুল হাসানকে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও কথা বলেন তিনি। পাশাপাশি পুলিশে বিভিন্ন পদে পদায়নে অর্থ লেনদেনসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করেন।
জানা গেছে, রাকিবুল হাসান রাকিব একসময় কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানা ও কুমারখালী থানায় কর্মরত ছিলেন। ওই সময়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে বিএনপিসহ বিরোধী দল দমনে তিনি সক্রিয় ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন দলীয় অনুষ্ঠানেও তাকে সক্রিয় দেখা গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। ১৭ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাকে আতশবাজি ফোটানো ও কেক কাটতেও দেখা যায়। ৫ আগস্টের পর রাকিবুল হাসানকে প্রথমে ডিএমপির ভাটারা থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়।
