তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়ের নেতৃত্বাধীন টিভিকে সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করার দাবি করেছে রাজ্যের গোয়েন্দা বিভাগ। রাজ্যটিতে সরকার গঠনের দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে এই অভিযোগ সামনে এলো।
সূত্রের দাবি, পরিকল্পনা ছিল টিভিকের ১৫ জন বিধায়ককে (এমএলএ) একযোগে পদত্যাগে রাজি করিয়ে সরকারের পতন ঘটানো।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টিভিকের এক বিধায়কের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্ত চলাকালে একটি পরামর্শক (কনসালটেন্সি) প্রতিষ্ঠানের এক কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তে ডিএমকের বিধায়ক সেথিল বালাজির সঙ্গে সম্ভাব্য যোগসূত্রের সন্ধান পাওয়ার দাবি করেছে তদন্তকারীরা। পরে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
এনডিটিভি বলছে, প্রথম গ্রেপ্তারটি হয় চেন্নাই থেকে। পরে করুর জেলা থেকে আরও দুজনকে আটক করা হয়। তদন্তকারীরা এই ষড়যন্ত্রের পেছনের বৃহত্তর নেটওয়ার্ক খতিয়ে দেখছেন।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে উথাঙ্গারাই কেন্দ্রের টিভিকে বিধায়ক এন. এলাইয়ারাজার অভিযোগের পর। চেন্নাই পুলিশের কাছে দায়ের করা অভিযোগে তিনি বলেন, আইপিডিএস নামের একটি কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠানের একজন প্রতিনিধি তাকে ৩৫ কোটি রুপি দেয়ার প্রস্তাব দেন। বিনিময়ে তামিলনাড়ু বিধানসভার স্পিকার এবং টিভিকে নেতা জেসিডি প্রভাকরের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব সমর্থন করতে বলা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য সতর্ক করা হয়।
এনডিটিভির সূত্রের দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের একজন সেথিল বালাজি এবং তার ভাই অশোকের ঘনিষ্ঠ।
তামিলনাড়ুর মন্ত্রী সি টি নির্মল কুমার এই অভিযোগে ডিএমকেকে তীব্রভাবে আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেন, সেথিল বালাজির ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা এবং তথাকথিত ‘করুর গ্যাং’-এর সদস্যরা এই ঘটনায় সরাসরি জড়িত। পুলিশের উচিত জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া এবং তাদের গ্রেপ্তার করা। এ ধরনের অপতৎপরতার অবসান ঘটাতে হবে।
নির্মল কুমার আরও অভিযোগ করেন, ডিএমকে অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাজাগম (এআইএডিএমকে)-এর নেতা এডাপ্পাড়ি কে. পালানিস্বামীর সঙ্গে যোগসাজশ করে বিজয় সরকারের পতনের চেষ্টা করছে।
তার দাবি, টিভিকের একাধিক বিধায়ককে দলত্যাগে উৎসাহিত করতে বিপুল অঙ্কের অর্থের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এডাপ্পাড়ি পালানিস্বামী ও তার সহযোগীরা অসৎ উপায়ে সরকার গঠনের চেষ্টা করছিলেন। আজ আমরা তারই বাস্তব রূপ দেখতে পাচ্ছি। এম. কে. স্টালিন ও উদয়নিধি স্টালিনের নির্দেশে সেথিল বালাজিসহ ডিএমকের শীর্ষ নেতারা আমাদের বহু বিধায়কের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। কাউকে ১০ কোটি, কাউকে ২০ কোটি, আবার কাউকে ৫০ কোটি রুপি পর্যন্ত প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এমন একজন বিধায়কও নেই, যার সঙ্গে তারা যোগাযোগ করেননি।
ডিএমকে অভিযোগ করেছে, চলমান তদন্তের তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে ফাঁস করে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে টিভিকে সরকার।
দলের মুখপাত্র এ. সারাভানন এনডিটিভিকে বলেন, টিভিকে তদন্তের তথ্য ফাঁস করে একটি নির্দিষ্ট জনধারণা তৈরি করতে চাইছে। এতে বোঝা যায়, তাদের হাতে শক্ত প্রমাণ নেই; তারা শুধু একটি বয়ান প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।
তিনি আরও বলেন, যদি সরকারের হাতে সেথিল বালাজির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকে, তাহলে তাকে গ্রেপ্তার করে দেখাক।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিজয় এবং সাবেক ডিএমকে মন্ত্রী সেথিল বালাজির সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই বৈরী। করুর জেলার বাসিন্দা বালাজির এলাকাতেই বিজয়ের একটি নির্বাচনী সমাবেশে পদদলিত হয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
সে সময় বিজয় অভিযোগ করেছিলেন, তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতে ওই পদদলিতের ঘটনা পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছিল এবং এর পেছনে সেথিল বালাজির হাত রয়েছে। তবে বালাজি সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।
