আন্তর্জাতিক ডেস্ক 
প্রকাশিতঃ ২৪ জুন ২০২৬ ০৮:৪৬:৫৬ পূর্বাহ্ন
নেতানিয়াহুর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার হুমকি ট্রাম্পের

গাজা শান্তি পরিকল্পনা মেনে নেওয়ার জন্য ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে চাপ দিতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ঐতিহাসিক মিত্রতার ‘ডিভোর্স’ বা সম্পর্ক ছিন্ন করার হুমকি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে বর্তমানে বিশ্বের সব ইহুদি নেতানিয়াহুর ওপর মারাত্মক বিরক্ত বলেও দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।  

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের দুই সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জনাথন সোয়ানের যৌথভাবে লেখা বই ‘রেজিম চেঞ্জ: ইনসাইড দ্য ইম্পেরিয়াল প্রেসিডেন্সি অব ডোনাল্ড ট্রাম্প’ দুই শীর্ষ নেতার মধ্যকার এই উত্তপ্ত ফোনালাপের গোপন তথ্যটি ফাঁস করা হয়েছে। 


ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট-এ প্রকাশিত বইটির সারাংশ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এই দুই বিশ্ব নেতার মধ্যে এক উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ঘটেছিল। তখন গাজায় বিশেষ শান্তি পরিকল্পনা মেনে নেওয়ার জন্য ইসরায়েলের ওপর তীব্র রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছিলেন ট্রাম্প। ওই ফোনালাপের সময় ট্রাম্পের বিশেষ শান্তি দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনারও সশরীরে উপস্থিত ছিলেন।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই সংবেদনশীল ফোনালাপের সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত কড়া ভাষায় নেতানিয়াহুকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন যে, ‘বিবি (নেতানিয়াহুর ডাকনাম), সবাই তোমার ওপর বিরক্ত। সব ইহুদি তোমার ওপর বিরক্ত। এমনকি এই ফোনালাপে থাকা দুই ইহুদিও (কুশনার ও উইটকফ) তোমার ওপর অসন্তুষ্ট।’

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প আরও বলেন, “সবাই তোমাকে ঘৃণা করে, কিন্তু আমি সবসময় তোমার পাশে দাঁড়িয়েছি। চুক্তিটি ইসরায়েলের জন্য অত্যন্ত লাভজনক, এটি (গাজা শান্তি পরিকল্পনা) প্রত্যাখ্যান করা হলে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সম্পর্কে চিরতরে ফাটল ধরবে বা ‘ডিভোর্স’ ঘটবে।”

বইয়ে আরও দাবি করা হয়, এই চরম উত্তেজনাকর এবং কড়া ফোনালাপের মাত্র দুই দিন পর ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু যৌথভাবে ‘গাজা শান্তি পরিকল্পনা’ ঘোষণা করতে বাধ্য হন। নেতানিয়াহু গাজা চুক্তিটি মেনে নেন এবং কাতারের দোহায় হামাস নেতার ওপর চালানো বিমান হামলার জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন।


তবে এই শান্তিচুক্তির পরেও গাজায় মানবিক সংকট বৃদ্ধি, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা এবং ইরানের সাথে উদ্ভূত নতুন সামরিক ও রাজনৈতিক সংকটের কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতর নেতানিয়াহুর যুদ্ধনীতির প্রতি তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বজায় থাকে। সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারগুলোতেও ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, নেতানিয়াহুকে ‘মানসিকভাবে সুস্থ’ রাখতে মাঝে মাঝে তার সাথে কঠিন আচরণ করতে হয়। 

সূত্র: আরটি 
   

খামেনির শেষকৃত্যে মোদিকে আমন্ত্রণ জানাল ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ও দাফন উপলক্ষে আয়োজিত শোক অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার (২৪ জুন) ভারতের সংবাদ সংস্থা পিটিআই এ তথ্য জানিয়েছে। 


প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার দিল্লিতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের পক্ষ থেকে পাঠানো এ আমন্ত্রণ ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। তবে ভারতের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজে উপস্থিত থাকবেন নাকি কোনো প্রতিনিধি দল পাঠানো হবে, সে বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি নয়াদিল্লি। 

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, আগামী ৪ জুলাই রাজধানী তেহরানে প্রথম জানাজা ও তিন দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ৪ ও ৫ জুলাই তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে খামেনির মরদেহ শায়িত থাকবে, যাতে জনসাধারণ শ্রদ্ধা জানাতে পারে। ৬ জুলাই একটি রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। এই অনুষ্ঠান চলাকালীন তেহরান প্রদেশে সরকারি ছুটি পালিত হবে।


পরে ৭ জুলাই দেশটির পবিত্র শহর কোমে আরেকটি জানাজা ও শ্রদ্ধা নিবেদন এবং শোক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তীতে ৯ জুলাই আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জন্ম স্থান এবং শিয়া মুসলিমদের অন্যতম পবিত্র শহর মাশহাদে আরেক দফা জানাজার পর ইমাম রেজার মাজারে তাকে সমাহিত করা হবে। সেখানেই তার বাবার কবরও রয়েছে।


গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথমদিনে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার নিহত হন প্রায় ৩৬ বছর ইরানের নেতৃত্ব দেওয়া আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। একই হামলায় নিহত হন তার পরিবারের আরও অনেক সদস্য। এছাড়াও তার পুত্র ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিও এই হামলায় আহত হন। 

মূলত, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা আয়োজনের প্রক্রিয়াটি বারবার পিছিয়ে যায়। এর আগে এপ্রিল মাসে তার স্মরণে একটি সংক্ষিপ্ত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান আয়োজন করা হলেও তা পূর্ণাঙ্গ জানাজা ছিল না।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, একটি জমকালো অনুষ্ঠান আয়োজনে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা সার্বিক নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে। এই রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রায় ২ কোটি মানুষের সমাগম ঘটবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে ভারতের পাশাপাশি পাকিস্তান, চীন, রাশিয়া, কাতার, ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশের নেতাদেরও খামেনির শোক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে. পাকিস্তান ইতিমধ্যে তাদের একটি প্রতিনিধি দল পাঠানোর কথা নিশ্চিত করেছে। 


উপদেষ্টা সম্পাদক : এন, ইউ, বিশ্বাস
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : ফোরকান হোসেন

৪৯/১/এ, পুরানা পল্টন লেন, চতুর্থ তলা, ঢাকা-১০০০।
মোবাইল: ০১৭১৩১৮০০৪৪
ইমেইল: akhonbangla24@gmail.com