স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিতঃ ০৪ মে ২০২৬ ১১:২৬:১২ পূর্বাহ্ন
যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন লিমন

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ দেশে এসেছে। আজ সোমবার সকাল ৮টা ৪৭ মিনিটে তাঁর মরদেহবাহী উড়োজাহাজটি ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেছে।

বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক বিমানবাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ প্রথম আলোকে বলেন, জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। 


ফ্লোরিডায় হত্যার শিকার জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ দেশে এসেছে। বিমানবন্দরে শোকাহত স্বজনেরাছবি: শুভ্র কান্তি দাশ
ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এমিরেটসের একটি উড়োজাহাজে লিমনের মরদেহ পাঠানো হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বেলা দুইটার দিকে ফ্লোরিডার টাম্পা বে এলাকায় ইসলামি সোসাইটিতে লিমনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশ কমিউনিটির লোকজন জানাজায় শরিক হন।


লিমন (২৭) ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। গত ১৬ এপ্রিল তিনি নিখোঁজ হন। লিমনের সঙ্গে নিখোঁজ হন নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি (২৭)। তাঁদের এক বন্ধু বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে আনেন।

এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে জামিলের রুমমেট মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুঘরবেহকে তাঁর পারিবারিক বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় থেকে বলা হয়, আবুঘরবেহকে জিজ্ঞাসাবাদের পর গত ২৪ এপ্রিল ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকায় আবর্জনা ফেলার কালো রঙের কয়েকটি ব্যাগের মধ্যে জামিলের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ খুঁজে পাওয়া যায়।

আদালতের নথি অনুযায়ী, লিমনের মরদেহে কোনো কাপড় ছিল না এবং মরদেহে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। এ ঘটনায় আবুঘরবেহর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ মাত্রার (ফার্স্ট ডিগ্রি) হত্যার দুটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তাঁর কাছ থেকে একটি অস্ত্র উদ্ধারের কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আবুঘরবেহ লিমনের রুমমেট ছিলেন।


লিমনের মরদেহ খুঁজে পাওয়ার দুই দিন পর গত ২৬ এপ্রিল ম্যানগ্রোভ এলাকায় কয়েকজন মাছশিকারি কায়াক চালানোর সময় একটি কালো রঙের পলিথিন দেখতে পান। হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজে যেখানে জামিলের মরদেহ খুঁজে পাওয়া গেছে, এলাকাটি এর কাছেই। খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পলিথিনের ভেতর মরদেহের খণ্ডিত অংশ দেখতে পায়। তবে খণ্ডিত অংশগুলো এমন অবস্থায় ছিল যে পুলিশ সেগুলো শনাক্ত করতে পারছিল না। ৩০ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলনে এসে হিসলবরো কাউন্টি শেরিফ নিশ্চিত করেন, উদ্ধার হওয়া খণ্ডিত অংশ বৃষ্টির।

আদালতের নথি অনুযায়ী, লিমনের মরদেহে কোনো কাপড় ছিল না এবং মরদেহে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। এ ঘটনায় আবুঘরবেহর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ মাত্রার (ফার্স্ট ডিগ্রি) হত্যার দুটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তাঁর কাছ থেকে একটি অস্ত্র উদ্ধারের কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আবুঘরবেহ লিমনের রুমমেট ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রে নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবার ন্যায়বিচার পাবে

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘দুই শিক্ষার্থী হত্যার বিচারের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। যাতে এ হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত হয়, সুষ্ঠু বিচার হয়। সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আশা করছি নিহতের পরিবার ন্যায়বিচার পাবে।’

সোমবার সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নৃশংস হত্যার শিকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের খণ্ডিত লাশ গ্রহণ করে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।


তিনি বলেন, বৃষ্টির লাশও দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে। যুক্তরাষ্ট্রে নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারের পাশে থাকবে সরকার।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের খণ্ডিত লাশ দেশে ফিরেছে। সোমবার (৪ মে) ৮টা ৪০ মিনিটে তার লাশ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।

গত ২৫ এপ্রিল লিমনের মরদেহ উদ্ধারের পর ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং মায়ামিতে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, নিহতের পরিবার, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, টাম্পার স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশি এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ বিভাগের সমন্বয়ে সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার জোহরের নামাজের পর টাম্পার ইস্তাবা ইসলামিক সোসাইটি অব টাম্পা বে এরিয়া মসজিদে লিমনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার শিক্ষার্থী, নিহতের খালা, কনসাল জেনারেল, গণমাধ্যমকর্মীসহ স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশ নেন।

একই ঘটনায় নিহত ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ শনাক্তের বিষয়টি গত ১ মে হিলসবোরো কাউন্টির শেরিফ অফিস নিশ্চিত করে। এরপর মায়ামিতে বাংলাদেশ কনস্যুলেট পরিবারের সম্মতি নিয়ে মরদেহটি দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেয় এবং পিনেলাস কাউন্টির মেডিক্যাল এক্সামিনারের কাছে মরদেহটি একই ফিউনারেল হোমে হস্তান্তরের অনুরোধ জানায়।

এদিকে, হত্যাকাণ্ডের শিকার আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির লাশ ঢাকায় পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা যায়। আগামী ৬ মে ফ্লোরিডার টাম্পায় বৃষ্টির প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় শনিবার (২ মে) ওয়াশিংটনে বাংলা‌দেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মো‌র্তোজা ফেসবু‌কে এক পো‌স্টে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

ফেসবুকে গোলাম মো‌র্তোজা জানান, নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ৬ মে (বুধবার) দুপুর ২টায় টাম্পায় বৃষ্টির প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। মিয়ামি কনস্যুলেটের মাধ্যমে পুরো বিষয়টি সমন্বয় করছে ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাস।


উপদেষ্টা সম্পাদক : এন, ইউ, বিশ্বাস
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : ফোরকান হোসেন

৪৯/১/এ, পুরানা পল্টন লেন, চতুর্থ তলা, ঢাকা-১০০০।
মোবাইল: ০১৭১৩১৮০০৪৪
ইমেইল: akhonbangla24@gmail.com