শবে কদরের রাতে হযরত আয়েশাকে কোন দোয়া পড়তে বললেন?

এখনবাংলা.কম: আল্লাহ তাআলা মানুষের মুক্তির জন্য বিশেষ বিশেষ সুবিধা প্রদান করেছেন। এগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠতম একটি হলো শবে কদর বা লাইলাতুল কদর। এই রাতেই কোরআন নাজিল হয়েছে।

তবে এই অনন্য মাহাত্ম্যপূর্ণ রাতটি বিশেষ হিকমাতে আল্লাহ তাআলা গোপন রেখেছেন রমজানের শেষ দশকে, যাতে বান্দা সাগ্রহে সন্ধান করে এর মহিমা অর্জন করে। লাইলাতুল কদরের নির্দিষ্ট কোনো তারিখ নেই।

অনেকেই মনে করেন ২৭ রমজানের রাতে লাইলাতুল কদর নির্ধারিত। তবে এটা সঠিক নয়। কেননা রাসূল (সা.) এটা নির্দিষ্ট করে বলেন নাই। রাসূল (সা.) বলেন, আমাকে লাইলাতুল কদর দেখানো হয়েছে অতঃপর তা আমাকে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।

অতএব তোমরা রমযানের শেষ দশদিনের বেজোড় রাতসমূহে উহাকে তালাশ করো। (বুখারী) হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, একবার আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম- হে আল্লাহর রাসুল!

(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনি বলে দিন, আমি যদি লাইলাতুল কদর কোন রাতে হবে তা জানতে পারি, তাতে আমি কী (দোয়া) পড়বো? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি বলবে- اللَّهُمَّ إِنَّكَ عُفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুয়্যুন তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নি।’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাস অতএব আমাকে ক্ষমা করে দাও।’ (মুসনাদে আহমাদ, ইবনে মাজাহ, তিরমিজি, মিশকাত) رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هَذا بَاطِلاً سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ উচ্চারণ : ‘রাব্বানা মা খালাক্বতা হাজা বাতিলাং সুবহানাকা ফাক্বিনা আজান্নার। অর্থ ‘হে আমাদের প্রভু!

তুমি এ (বিশ্বকে) বৃথা সৃষ্টি করোনি। তুমি পবিত্র। সুতরাং তুমি আমাদের আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা কর।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১৯১) رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلًّا لِّلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَؤُوفٌ رَّحِيمٌ উচ্চারণ : ‘রাব্বানাগফিরলানা ওয়ালি ইখওয়ানিনাল্লাজিনা সাবাকুনা বিল ঈমানি ওয়া লা তাঝআল ফি কুলুবিনা গিল্লাল লিল্লাজিনা আমানু রাব্বানা ইন্নাকা রাউফুর রাহিম। অর্থ : ‘হে আমাদের পালনকর্তা!

আমাদের এবং ঈমানে আগ্রহী আমাদের ভাইদের ক্ষমা কর এবং ঈমানদারদের বিরুদ্ধে আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রেখো না। হে আমাদের পালনকর্তা! আপনি দয়ালু, পরম করুণাময়।’ (সুরা হাশর : আয়াত ১০)

ফেসবুকে আমরা