জাকাত দিতে হবে যে পরিমান সম্পদ থাকলে

এখনবাংলা.কম: সম্পদ পবিত্রতা ও সম্পদ বাড়ে যাকাত দিলে। যাকাত হল গরিবের হক। যাকাত দেয়া প্রত্যেক মুমিন মুসলিমদের কর্তব্য। জাকাত শব্দের অর্থ হচ্ছে বৃদ্ধি পাওয়া, বেশি হওয়া। ইহা হচ্ছে বিশেষ সম্পদে নির্ধারিত ব্যক্তিদের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে আদায় করা ফরজ। জাকাত আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে নিসাব পরিমান সম্পদের মালিক বান্দার উপর ফরজ করা হয়েছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন, “তাদের মালামাল থেকে জাকাত গ্রহণ করুন যাতে তার মাধ্যমে তাদেরকে পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন করতে পারেন। আর তাদের জন্য দোয়া করুন; নি:সন্দেহে আপনার দোয়া তাদের জন্য স্বান্ত্বনাস্বরূপ।

বস্তুত : আল্লাহ সবকিছু শোনেন, জানেন। (সূরা তাওবাহ : আয়াত ১০৩); তাহলে কোন কোন জিনিসের জাকাত দিতে হয় এবং কি পরিমাণ সম্পদ হলে জাকাত দিতে হয়; তা জানা মুসলমান মাত্রই অত্যন্ত আবশ্যক। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যে জাকাত বিধিবিধান করেছেন তা তিন ধরণের- প্রথম- সম্পদের জাকাত: ১. স্বর্ণ ও রূপা এবং সকল মুদ্রা; ২. ‘বাহিমাতুল আনআ’ম তথা উট, গরু, দুম্বা-ভেড়া ও ছাগল; যেগুলো মুক্তভাবে বিচরণকারী। ৩. জমিন থেকে যা বের হয়; যেমন- শস্যদানা, ফল-ফলাদি ও খনিজপদার্থ। ৪. ব্যবসা সামগ্রী; দ্বিতীয়- ব্যক্তি দায়িত্বের ফরজ জাকাত।

যা প্রতিটি মুসলিমের প্রতি রমজান মাসের শেষে ঈদের নামাজের পূর্বে আদায় করা ফরজ হয়। অর্থাৎ সাদাকাতুল ফিতর। তৃতীয়- উত্তম দান খয়রাত। যা মুসলিম ব্যক্তি আল্লাহর নিকট বেশি ছাওয়াবের আশায় অন্যের প্রতি ইহসান করে থাকে। ১. স্বর্ণ ও রূপার জাকাত হচ্ছে আড়াই ভাগ (২.৫০%) স্বর্ণের পরিমাণ : স্বর্ণ বিশ দিনার* ও এর অতিরিক্ত হলে শতকরা আড়াই ভাগ (২.৫০%) জাকাত ফরজ হবে।

২০ দিনার সমান হবে ৮৫ গ্রাম স্বর্ণ। যা ভরির হিসাবে সাড়ে সাত তোলা বা ভরি। রূপার পরিমাণ : রূপা দুই শত ও এর অধিক সংখ্যা দিরহাম হলে বা ওজনে পাঁচ আওয়াক ও এর বেশি হলে শতকরা আড়াই ভাগ (২.৫০) জাকাত ফরজ হয়। এই হিসাবে দুই শত দিরহাম সমান ৫৯৫ গ্রাম হয়। যা ভরি/তোলার হিসাবে সাড়ে ৫২ তোলা রূপা হয়। মনে রাখতে হবে- জাকাতে দেয়ার নিসাব বা পরিমাণ মিলানোর জন্য স্বর্ণ ও রূপা এক সাথে মিলানো যাবে না। আলাদা আলাদা হিসাবে হতে হবে।

*দিনার : এক দিনার (স্বর্ণমদ্রা) সমান হচ্ছে এক মিছকাল। আর এক মিছকাল বর্তমান যুগের হিসাবে ৪.২৫ গ্রাম। মুদ্রাসমূহের জাকাত- বর্তমান যুগের মুদ্রাসমূহ যেমন- রিয়াল, ডলার, টাকা ইত্যাদির বিধান স্বর্ণ-রূপার বিধানের মতোই। কিমাত তথা বর্তমান মূল্যের ভিত্তিতে নির্ধারণ করতে হবে।মুদ্রা পরিমাণ যখন স্বর্ণের বা রূপার মূল্যের সম পরিমান নেসাবে পৌঁছবে তখন তাতে জাকাত ফরজ হবে।

আর জাকাত আদায়ের পরিমাণ হচ্ছে ২.৫০% ভাগ যখন পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত হবে। মুদ্রার জাকাত বের করার পদ্ধতি : যেমন ধরা যাক- বর্তমান বাজারে এক ভরি স্বর্ণের দাম ৫০,০০০/- পঞ্চাশ হাজার টাকা তাহলে সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণের দাম হবে ৩,৭৫,০০০/- তিন লাখ পঁচাত্তর হাজার টাকা। যার নিকট সর্ব নিম্ন এই টাকা থাকবে, তাকে ২.৫০% আড়াই ভাগ জাকাত আদায় করতে হবে।

অর্থাৎ তাকে ৯,৩৭৫/- নয় হাজার তিন শত পঁচাত্তর টাকা জাকাত দিতে হবে। অথবা সমস্ত সম্পদকে ৪০ দ্বারা ভাগ করলে দশ ভাগের এক চতুর্থাংশ দাঁড়াবে। আর ইহাই স্বর্ণ-রূপার ও এর হুকুমে যা আসে তার জাকাত। মনে করুন এক জনের নিকট টাকা আছে ৩,৭৫,০০০/- তিন লাখ পঁচাত্তর হাজার টাকা (৩,৭৫,০০০/৪০=৯৩৭৫/-) ইহা হচ্ছে তার ঐ তিন লাখ পঁচাত্তর হাজার টাকার জাকাত।

আর ইহা দশ ভাগের এক চতুর্থাংশ। ২. ‘বাহিমাতুল আনআ’ম তথা উট, গরু, দুম্বা-ভেড়া ও ছাগল-এর জাতাতের দু’টি অবস্থা : ক. যখন এ পশুগুলো একটি পূর্ণ বছর বা অধিকাংশ সময় বৈধ মরুভূমি বা খোলা মাঠে কিংবা চারণভূমিতে মুক্তভাবে বিচরণ করবে। বছর পূর্ণ হওয়ার পাশাপাশি নির্ধারিত নিসাবে বা পরিমাণে পৌঁছবে তখন তাতে জাকাত ফরজ হবে। চাই তা দুধের জন্য বা বাচ্চা নেয়ার জন্য বা মোটা-তাজা করার জন্য হোক। প্রতিটি পশুর যে জাতি রয়েছে জাকাত তার জাতি দ্বারাই আদায় করতে হবে। জাকাত দেয়ার সময় সর্বোত্তম বা সর্বনিম্ন মানের পশুটি নেয়া যাবে না।

বরং মধ্যমটি গ্রহণ করতে হবে। খ. যখন এ পশুগুলোর খাদ্য নিজের বাগান থেকে বা ক্রয় করে ব্যবস্থা করা হবে। যদি এগুলো ব্যবসার নিয়্যতে ক্রয় করে আর তার উপর এক বছর অতিবাহিত হয় তবে বিক্রয় মূল্য নির্ধারণ করে ২.৫০% (আড়াই ভাগ) জাকাত দিতে হবে। আর যদি ব্যবসার জন্য না হয়; বরং দুধ বা বাচ্চা দেয়ার জন্য হয় এবং পশু খাদ্যের ব্যবস্থা মালিককে করতে হয় তবে এতে কোনো জাকাত নেই।

ফেসবুকে আমরা